২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:১১

সব বিষয়ে জিপিএ-৫, চুক্তিবদ্ধ টাকা না দেওয়ায় ওএমআর পাল্টিয়ে ফেল!

প্রতীকী ছবি  © টিডিসি সম্পাদিত

এসএসসি পরীক্ষায় এক শিক্ষার্থীর ফল নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে ওএমআর শিট পরিবর্তনের জালিয়াতি ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, এমসিকিউ পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার চুক্তির টাকা না দেওয়ায় ওই শিক্ষার্থীকে ফেল করিয়ে দেওয়া হয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার ১৯ লক্ষ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে, ১২ লক্ষ পাস করেছে। আমি এবার আইনত বললাম যাদের যাদের কোশ্চেন আছে, তারা খাতা রি-এক্সামিন করতে পারে! ওরে আল্লাহ রে আল্লাহ!  ১২ লক্ষ পাস করেছে, ১৩ লক্ষ খাতা দেখার জন্য দরখাস্ত পড়েছে! বাকি ৬ লক্ষ করেনি। তা না হলে ১৯ লক্ষ আবার দেখতে হতো!

তিনি বলেন, এই যে আমি ১২ লক্ষ খাতা চেক করলাম, তার মধ্যে ৪৫ হাজারের জিপিএ চেঞ্জ হইলো! ৪৫ হাজার! নট ৪,৫০০! এছাড়া ৫ হাজার ফেল করা শিক্ষার্থী পাস করল, ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ এ-প্লাস পেল। কারণটা কী? এই এক্সামিনাররা খাতা দেখে—যেই এক্সামিনার খাতা নিয়েছে তিনি খাতা না দেখে অন্যকে দিয়ে দেখিয়েছেন।তারা কত রিলাক্টেন্ট! তারা কত অন্যায় করছে, ক্যান ইউ ইমাজিন?’ 

অনিয়মের এক ঘটনা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এক শিক্ষার্থী অ্যাপ্লিকেশন করল যে সে জিপিএ-৫ পাওয়ার ছাত্র। প্রত্যেকটি বিষয়ে এ-প্লাস পেয়েছে, একটাতে ফেল করেছে! কী দুঃখজনক! শুনে ভাবলাম এটায় সিরিয়াস হতে হবে আমাকে। ট্যাবুলেশন শিটে কিছুই পাওয়া গেল না। এমসিকিউর খাতা বের করা হলো।  দেখলাম সে এমসিকিউতে ফেল করেছে! এমসিকিউ ফেল তো করতেই পারে, নাকি হয় না? হতেই পারে, ফেল মানে ফেল!  

তিনি বলেন, তবে আমার মনে বুদ্ধি জাগলো যে, না, এটা তো হতে পারে না, কিছু একটা রয়েছে! তারপরে ওই এমসিকিউ ওএমআর শিট বের করে, ওর সিগনেচার এনে কপি করে দেখলাম—ওএমআর শিট... এমসিকিউ ওএমআর শিট পাল্টিয়ে দিয়েছে! ফেল করানো হয়েছে! বুঝলেন তো কেন ফেল করানো হলো?  এইটা নিয়ে আমাকে কাজ করতে হয়েছে। কেন করেছে জানেন? চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল যে এমসিকিউতে পাস করিয়ে দিবে, টাকা দেওয়া হবে। ওই ছেলেটি টাকা দেয়নি, সেই জন্যই জেদ করে ওকে ফেল করানোর জন্য শিট পাল্টিয়ে দেওয়া হয়েছে!

তিনি আরও বলেন, এখন তো তারাই ধরা খেল! এটাই হচ্ছে আমাদের সিস্টেম। যে যেখানে পায়, সেখানে কিছু না কিছু অসৎ লোক থেকে থাকে। ওই কিছু না কিছু অসৎ লোক এই কাজটা করে। 

আরেক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই এক্সামিনার কারা কারা এই দুষ্টুমি করেছে, তাদেরকে আমি আইনের আওতায় আনব। এখন এক্সামিনার চেঞ্জ করব, ট্রেনিং করাব—সবকিছু ঠিক করলাম। এর মাঝখানে একটা ইন্টেলিজেন্ট নটরিয়াস বয় (ধুরন্ধর ছেলে) এমন একটা ঘটনা ঘটিয়ে দিল, যেটা আজকে আপনার এখানে থাকতে... টেলিফোনে মামলা করার কথা বললাম। একটা ইন্টেলিজেন্ট ছেলে, একটু দুষ্টু বটে, তার বন্ধু জিপিএ এ-প্লাস পেয়ে গেছে। সে তো জানে এই বন্ধু জিপিএ এ-প্লাস পাওয়ার কথা না। এখন ভেরিফিকেশন কোড ছাড়া, যে কেউ আপনার এই রি-এক্সামিনের জন্য এপ্লাই করতে পারে। সে বন্ধু সেজে সেই খাতা রি-এক্সামিন করার জন্য পাঠিয়ে দিয়েছে! 

মন্ত্রী বলেন, এখন রি-এক্সামিন হয়ে গেছে বন্ধুর খাতা। বন্ধুর জিপিএ... এখন দেখা গেল বন্ধু ফেল করেছে! স্যার, চিন্তা করতে পারেন? জিরোকে বানিয়েছে ৮৫, ১৩কে বানিয়েছে ৮৩, জিপিএ এ-প্লাস! তার মানে কী? ডাল মে কুছ কালা হ্যায়! এটা কে করেছেন? এটা বের করা কত কঠিন! আজকে মামলা করে দিলাম। এটা বের করতে হবে আমাকে!