২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:১৭

শিক্ষকদের বদলির সভায় যা হলো

প্রতীকী ছবি   © সংগৃহীত

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির সভা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক দেশে ফেরার পর পুনরায় সভা করা হবে বলে জানা গেছে।

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে বেলা সাড়ে ৩টা থেকে সভাটি শুরু হয়। সভা শেষ হয় সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন এমন অন্তত তিন কর্মকর্তা এবং ৪ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের জানান, এনটিআরসিএর সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বদলি দরকার। যারা বাধ্য হয়ে দূরের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। এনটিআরসিএ ভুল করেছে, সেটা হলো তারা নিয়োগ সুপারিশ করেছে। এজন্য বদলিটা এনটিআরসিএ যাদের সুপারিশ করেছে, তাদের দরকার। শিক্ষামন্ত্রীর এমন মতামতের পর সভায় উপস্থিত প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা জানান, বদলি নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন নেওয়া হয়েছে; ফলে এবারের মতো এভাবেই বদলির ফল প্রকাশ করা দরকার। যদি নীতিমালা পরিবর্তন করে নতুন করে আবেদন নেওয়া হয়, তাহলে শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হবে। তারা আন্দোলন করবেন।

প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের এমন মতামতের পর শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন জানান, ঠিক আছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক দেশে ফেরার পর মন্ত্রণালয়ে সভা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সভায় বদলি নিয়ে নানা ইস্যু তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। সভার একটি সূত্র জানায়, সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে আমরা সুযোগ দেব, তবে সবকিছু নিয়মের মধ্যে হতে হবে। কোনোভাবেই ‌‘ফ্রি স্টাইল’ বা অতিরিক্ত স্বাধীনতা দেওয়া যাবে না। যেমন—আমি নিজেই তালা থেকে গাড়ি চালিয়ে মিটিংয়ে আসছিলাম, তখন এক ছেলে আমার গাড়িতে ধাক্কা দিল। ড্রাইভার বলল, ‘ভাই, এটা ভিআইপি গাড়ি।’ আমি তখন ড্রাইভারকে বললাম, "এটা যদি আগের আওয়ামী লীগ সরকার হতো এবং গাড়িতে পতাকা থাকত, তাহলে তো দূরের কথা, ওই যুবকের খবরই থাকত না!" কথাটি হলো—অনেক সময় অতিরিক্ত স্বাধীনতাও ভালো ফল আনে না। বদলির সুযোগ থাকবে, কিন্তু নিয়মবহির্ভূত সুযোগ বা স্বেচ্ছাচারিতা বরদাস্ত করা হবে না।

মন্ত্রী বলেছেন, আপনারা বলেছেন যে এবার যেন একটি সুশৃঙ্খল সিস্টেমের মাধ্যমে বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এ বিষয়ে অনেকেই সফটওয়্যার বানিয়ে আবেদন আহ্বান করেছিলেন এবং তা আমার কাছেও নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু যাচাই করে দেখলাম যে সিস্টেমটি ডিফেক্টিভ (ত্রুটিপূর্ণ) ছিল। একটু চিন্তা করে দেখুন, আমি যদি তখন না বুঝে ওই বাটনে প্রেস করে দিতাম, তাহলে ঢাকার নামী-দামি স্কুলগুলোতে শিক্ষক না গিয়ে চট্টগ্রাম বা অন্য অঞ্চলের শিক্ষকরা হঠাৎ করে ভিড় জমাতেন! তখন পরদিন আমার বিরুদ্ধে কী অবস্থা তৈরি হতো, একবার ভেবে দেখুন!