২৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:১১

শিক্ষকরা বেতনও নেবে সরকারের বিরুদ্ধে কটূক্তিও করতেই থাকবে—ইজ ইট এ রিয়ালিটি?

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন  © ফাইল ফটো

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষকরা বেতনও নেবে, আবার সরকারের বিরুদ্ধে কটূক্তিও করতেই থাকবে। ইজ ইট এ রিয়ালিটি? এটা হতে পারে? হতেও পারে যদি আপনারা অবহেলার পাত্র হন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টাঙ্গাইলে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি জানি আপনাদের দাবির কোনো শেষ নেই। কিন্তু আমি যদি একে একে বলি প্রত্যেকটি দাবি অ্যাড্রেস করার দায়িত্ব আমার, আপনাদের নয়। 

‘‘প্রতিদিন আমি ফেসবুকে হুংকার শুনি। এমপিও করা শিক্ষক তিনি কলেজে না গিয়ে, মাদ্রাসায় না গিয়ে, স্কুলে না গিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে বক্তৃতা দিয়ে বেড়াচ্ছেন। ওই শিক্ষক একবারও চিন্তা করেনি, উনি একটি মাদ্রাসা অধ্যক্ষ, সেখানে ক্লাসে যাচ্ছেন না, আরেকজনকে বয়ান দিচ্ছেন। তাহলে চাকরিটা ছেড়ে চলে আসেন। ডিসি সাহেব কি বেতন নিয়ে চাকরি না করে কি থাকতে পারে? পারে না। আবার দেখুন, একজন সরকারি আমলা বা পুলিশ কর্মকর্তা হঠাৎ করে সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে পারে না। আর আমার শিক্ষকরা বেতন নিবে এবং সরকারের বিরুদ্ধে কটূক্তিও করতেই থাকবে। ইজ ইট এ রিয়ালিটি? এটা কি হতে পারে? আবার হতেও পারে যদি আপনারা অবহেলার পাত্র হন।’’

তিনি বলেন, এই বছরেই এমপিও শিক্ষকদের আরো ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা বাড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলাম। বাজেট অ্যালেকেশনের জন্য সেটা পারিনি। আগামী ঈদে যে পাবেন না সেটা আপনি জানলেন কীভাবে। আমরা দিয়ে দেবো আর আপনি দেখাবেন আপনার নেতার ধমকে আমরা দিচ্ছি?

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই যে আপনারা উৎসব ভাতার কথা বলছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা দিয়েছিলেন। এরপর ২০২৬ সালে আমরা চলে আসলাম আর উৎসব ভাতা বাড়েনি। আমরা আবার এসেছি ৯ মাস হলো। আপনারা হুংকার দিয়ে বসলেন শতভাগ উৎসব ভাতা ছাড়া ঘরে ফিরবেন না। কোথায় ছিলেন ওই শিক্ষকরা এতদিন। আমি তো এবারেই আরো ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা বাড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলাম। বাজেট অ্যালেকেশনের জন্য সেটা পারিনি। আগামী ঈদে যে পাবেন না সেটা আপনি জানলেন কীভাবে। আমরা দিয়ে দেবো আর আপনি দেখাবেন আপনার নেতার ধমকে আমরা দিচ্ছি।

এ সময় তিনি আরো বলেন, বেতনের জন্য প্রধানমন্ত্রী কাজ করেন না। বেতনের জন্য মন্ত্রী কাজ করেন না, শিক্ষরাও কাজ করেন না। কিন্তু এটাও তো সত্য জীবিকা নির্বাহের জন্য বেতনের দরকার রয়েছে। এই পে-স্কেল শিক্ষকদেরও দরকার রয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষক হলেন আইডল। এই সমাজকে গড়তে হলে শিক্ষকদের দরকার। এর কোনো বিকল্প নেই। আমরা শিক্ষকদের অনুকরণ করি- তাই না? শুধু যে শিক্ষার্থীরা অনুকরণ করেন বিষয়টি কিন্তু তা নয়। শিক্ষক হলেন আইডল। এই সমাজকে গড়তে হলে শিক্ষকদের দরকার। এর কোনো বিকল্প নেই।