বছরের পর বছর ‘প্রভাষক’ থাকার অভিযোগ শিক্ষকদের, নোট নিতে বললেন শিক্ষামন্ত্রী
বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসের মধ্যে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা সবচেয়ে বেশি হতাশায় ভুগছেন বলে মন্তব্য করেছেন ৪৯তম বিসিএসে নিয়োগপ্রাপ্ত এক নবীন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বগুড়ায় ৪৯তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে কাছে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আগে যারা যোগদান করেছেন, আমাদের সেই সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলে এবং তাদের অভিজ্ঞতা শুনে যতটুকু জানতে পেরেছি, তাতে মনে হয়েছে, সব ক্যাডার সার্ভিসের মধ্যে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারাই বোধহয় সবচেয়ে বেশি হতাশ। এর অন্যতম কারণ বিলম্বিত পদোন্নতি।
ওই শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা বলেন, আসলে আমরা কাজ করি সম্মানের জন্য। হ্যাঁ, অবশ্যই অর্থ একটি অন্যতম প্রভাবক। তবে আমরা সম্মানের জন্যও কাজ করি। সম্মান আসে মানুষের সামাজিক অবস্থান থেকে। একজন ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে কর্মক্ষেত্রে শুধু প্রভাষক হিসেবে কাজ করে গেলে এবং কোনো পদোন্নতি না পেলে তাঁর পক্ষে একই ধরনের উদ্দীপনা ও প্রেরণা নিয়ে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, আরেকটি বিষয় বলা হয়েছে, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’। আনন্দ তখনই আসবে, যখন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই আনন্দের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে পারবেন। আমরা শিক্ষকদের মধ্যে যেমন আনন্দ দেখতে চাই, তেমনি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও তা দেখতে চাই।
শিক্ষামন্ত্রীর কাছে বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ব্যবস্থা যেন খুব দ্রুত করা হয়। এতে আমরা একই উদ্দীপনা নিয়ে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে কাজ করার প্রেরণা পাব। সেই প্রেরণা নিয়ে আমরা আরও ভালোভাবে আলো ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হব বলে আশা করছি।
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, আপাতত আমার পক্ষ থেকে এতটুকুই। বাকি কথা অন্যরা বলবেন। আমাকে মনোযোগ দিয়ে শোনার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মহাপরিচালককে উদ্দেশ করে বলেন, নোটেড ডাউন ক্লিয়ারলি অ্যান্ড পুট ইট ইন দ্য ফাইল, হোয়াট দে ডিমান্ড। অর্থাৎ, তাদের দাবিগুলো স্পষ্টভাবে নোট করে ফাইলে রাখতে বলেন তিনি।