১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:১৩

২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা নিতে চেয়েছিলাম এগিয়ে এনে, কিন্তু পারিনি

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বক্তব্য রাখছেন  © সংগৃহীত

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা নিতে চেয়েছিলাম একটু এগিয়ে এনে, কিন্তু পারিনি। শেষ মুহূর্তে রমজানের জন্য, এবার পার হয়ে গেল। কারণ রমজানের আগে পরীক্ষা নিতে গেলে খুব টাইট হয়ে যায়। আবার রমজানের পরে গেলে দেরি হয়ে যায়। তবু রমজানের পরে আমরা শুরু করছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাচ্ছিলাম ইন্টারভিউ পরীক্ষা আরও সিঙ্ক্রোনাইজড করতে। হয়ে ওঠেনি। হতে হবে। আমাদের ইচ্ছা আছে, চেষ্টা আছে, আস্তে আস্তে। এই যে সব জায়গায় লস, এই যে এক বছর বসে থাকা, এই বিসিএস পাস করার পরে জয়েন করা—এই জায়গাটাকে আমাদের এক্সপ্লেইন করতে হবে।’

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বগুড়ায় ৪৯তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘জীবনের কতগুলো সময় পার হয়ে গেল? ৪৯তম বিসিএস শিক্ষা স্পেশালাইজড, লক্ষাধিক পরীক্ষা দিয়েছেন। সেখান থেকে কত? ৫০০ মতো এমসিকিউতে টিকার পরে, ভাইভা, তারপরে ৬৫১ জন আমরা পেয়েছি আজকে। এই বিসিএসটি ডিটারমাইন্ড ছিল যে আমরা শিক্ষকতায় আসব।’

তিনি বলেন, ‘এই যে সময়ক্ষেপণ, এটা কিন্তু ন্যাশনাল ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড থেকে আমাদের পিছিয়ে দেয়। পিছিয়ে দেয় আমার ব্যক্তিগত পরিবারকে সাহায্য করার থেকে, পিছিয়ে দেয় জাতিকে। এই জিনিসটি আমাদের বিশ্বাস করতে হবে, বুঝতে হবে।’

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘যেমন ধরা যাক, ছয় বছর বয়সে একটি শিশু স্কুলে যাওয়া শুরু করে। ১৬ বছর বয়সে সে এসএসসি পরীক্ষা দেয়।পরীক্ষা, সার্টিফিকেট দেওয়া—এই জন্য একটি বছর সময় চলে যায়। অর্থাৎ ১৭ বছরে এসে সে এসএসসি সার্টিফিকেট পায়।’

আরও খবর: এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ভোকেশনাল শিক্ষায় নেওয়ার চিন্তা

‘দুই বছর আবার দিয়ে দেওয়া হয় ইন্টারমিডিয়েটের জন্য। আবার বোর্ড পরীক্ষা নেওয়ার জন্য একটি বছর নিয়ে নেয়। অর্থাৎ হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশন, হায়ার সেকেন্ডারি সার্টিফিকেট, ইন্টারমিডিয়েট পাস করবে—১২ বছর স্কুল। আর ছয় বছর বয়স থেকে ১৮, আমরা চলে আসছি ২০ বছর বয়সে। দুটি বছর নিয়ে নেওয়া হলো’, যোগ করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ লোকেরা জাতির জীবন থেকে কতগুলো বছর হারাল, হিসাব করেছে? দুটি পরীক্ষায় যদি ২০ লাখ ছেলেমেয়ে পরীক্ষা দেয়, সেই ২০ লাখকে দুই বছর দিয়ে গুণ করলে ৪০ লাখ বছর। এ সময় জাতির জীবন থেকে চলে যাচ্ছে, কার জন্য? মিনিস্ট্রি অব এডুকেশন, মিনিস্টার অব এডুকেশন—এই জবাবদিহি আমাকে করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘জাতির ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড, আমি শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার পরেও ৪০ লাখ বছর চলে যাচ্ছে। এই জায়গাগুলোতে অ্যাড্রেস করার জন্য চেষ্টা করছি, কিন্তু কোনো না কোনো কারণে পেরে উঠছি না।’