১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৫০

শিক্ষকদের পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ ও পছন্দের কর্মস্থল বিবেচনার আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর

ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন  © সংগৃহীত

নবীন শিক্ষকদের কর্মজীবনের শুরুতেই নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণ, শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং সরকারি কলেজগুলোকে সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ তৈরির প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে শিক্ষকদের পদোন্নতি, উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ, নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা, স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল সমন্বয় এবং পছন্দ অনুযায়ী পদায়নের বিষয়গুলো বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

 মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বগুড়ায় ৪৯তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

নবনিযুক্ত শিক্ষকদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কর্মজীবনের শুরুতেই ঠিক করতে হবে তাঁরা কী করতে চান, কোথায় যেতে চান এবং কীভাবে নিজেদের কর্মের মধ্য দিয়ে উত্তরাধিকার বা লিগ্যাসি তৈরি করতে চান। শিক্ষকদের দায়িত্ব শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নয়, বরং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা।

নবীন শিক্ষকদের মধ্যে একজন শিক্ষক স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল দূরে হওয়ার সমস্যা তুলে ধরেন শিক্ষকরা। একজন বলেন, স্বামী-স্ত্রী দুজন সরকারি চাকরিজীবী হলে এবং তাঁদের কর্মস্থল অনেক দূরে হলে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সংসার সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দুই দিনে এক কর্মস্থল থেকে অন্য কর্মস্থলে যাতায়াত করতে গিয়ে মানসিক চাপ তৈরি হয়। এ কারণে স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল কাছাকাছি রাখার ব্যবস্থা এবং শিক্ষকদের পছন্দ অনুযায়ী পদায়নের জন্য চয়েস লিস্ট চালুর দাবি জানান তিনি।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা সরকার বোঝে। শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, পদায়নের ক্ষেত্রে আগে থেকেই কর্মরত শিক্ষকদের অবস্থান, বিদ্যমান নীতিমালা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকসংকটের বিষয়টি বিবেচনা করতে হয়। তাই সবার পছন্দ অনুযায়ী পদায়ন করা সব সময় সম্ভব না হলেও শিক্ষকদের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমি সব সময় নতুন কিছু করার চিন্তা করি। নতুন ভাবনা শিখেছি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে, শিখেছি দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে। আর একই ধারণা নিয়ে কাজ করছি আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেবের সঙ্গে।

তিনি বলেন, আমি যখন বিরোধী দলে ছিলাম, তখন কিছু লেখালেখি করতাম। সে সময় ২০১৫ সালে একটি আর্টিকেল লিখেছিলাম, যার শিরোনাম ছিল ‘তারেক রহমান জেনেটিক্যালি স্মার্ট’। লেখাটিতে আমি বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছিলাম। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার মধ্য দিয়ে তাঁকে যেভাবে দেখেছি, সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই লেখাটি লিখেছিলাম। তখন কিন্তু তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। সেই সময় তাঁকে যেভাবে দেখেছি, তার ভিত্তিতেই কথাগুলো লিখেছিলাম।

জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, আমাদের অনেক অফুরন্ত সম্পদ রয়েছে, যা আমরা এখন ব্যবহার করতে পারছি না। এমন দিন আসবে, যখন বাংলাদেশের সীমানার বাইরে সমুদ্রের বিশাল সম্পদ আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। হিমালয় থেকে নেমে আসা পলিমাটি আমাদের শক্তি জোগাচ্ছে। এভাবেই আরেকটি বাংলাদেশের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, যা আমরা দেখতে পাচ্ছি। সেই সময়ই আমরা তাঁর দূরদর্শিতা ও ভিশন দেখেছিলাম।

এরপর দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। দেখেছি, তিনি শিক্ষাকে কতটা গুরুত্ব দিতেন। তিনি সব সময় শিক্ষার কথা ভাবতেন, শিক্ষকদের কথা ভাবতেন।

এখন জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করার প্রসঙ্গ এসেছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমি তাঁর সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বহু কাজ করেছি। এই দুই প্রজন্মের অভিজ্ঞতা ও চিন্তাধারার সমন্বয়ে যে ধারাটি তৈরি হয়েছে, তারেক রহমান সাহেব সেই শিক্ষা নিয়েই প্রতিনিয়ত কাজ করছেন।

অতএব, আপনারা যাঁরা সৌভাগ্যবান শিক্ষক হিসেবে আজ শিক্ষকতা পেশায় যোগ দিতে যাচ্ছেন, তাঁদের আবারও স্বাগত জানাচ্ছি। আপনারা যেভাবে রজনীগন্ধা হাতে নিয়ে ফুলের সুবাসে আজকের এই অডিটোরিয়ামকে সুরভিত করেছেন, আমি বিশ্বাস করি, আগামী দিনগুলোতেও আপনারা সারা বাংলাদেশকে এভাবে সুরভিত করবেন।