১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৪৬

গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে কেমন গুণাবলি চান— বললেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন  © সংগৃহীত

গ্র্যাজুয়েটদের দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী, গবেষণামুখী ও প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন হিসেবে গড়ে ওঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি চান, স্নাতকেরা যেন বাস্তব কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি গবেষণায় অবদান রাখতে পারেন, নতুন প্রযুক্তি বুঝতে পারেন এবং স্থানীয় সমস্যার কার্যকর সমাধান বের করতে পারেন।

রবিবার (১১ অক্টোবর) ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তনে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের দায়িত্ব হলো, শিক্ষা যেন তরুণদের পরিবর্তনশীল অর্থনীতিতে অবদান রাখার মতো দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস প্রদান করে, তা নিশ্চিত করা। আমাদের এমন স্নাতক তৈরি করতে হবে, যাঁরা বাস্তব কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন, গবেষণায় অবদান রাখবেন এবং আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাতে পারবেন। আমরা যখন শিক্ষার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে পারব, তখনই আমাদের এই উদ্যোগের প্রকৃত সার্থকতা প্রকাশ পাবে।

তিনি বলেন,  এই সার্থকতা স্পষ্ট হয়ে উঠবে যখন একজন তরুণ প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে একটি অর্থবহ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। গবেষণার মাধ্যমে উৎপাদনশীলতার উন্নতি ঘটবে, উদ্ভাবনের ফলে প্রয়োজনীয় সেবা আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী হবে। আমি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার ওপর গুরুত্ব দিতে চাই। এ ক্ষেত্রে অর্থবহ ইন্টার্নশিপ, বাস্তবভিত্তিক প্রকল্প এবং শিল্পখাতের নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধানে গবেষণার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা আমাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনের মান উন্নয়ন, জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার, নতুন পণ্য উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। একইসঙ্গে কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়ও গবেষণা ভূমিকা রাখতে পারে।  

স্নাতকদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আপনারা এমন একটি বিশ্বে পেশাজীবন শুরু করছেন, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ক্রমাগত নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে। আপনারা নিয়মিত শিখতে থাকবেন। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে শিখবেন এবং সেগুলোর ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন করার সক্ষমতা গড়ে তুলবেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কোনো ব্যবস্থা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আপনাকে একটি উত্তর দিতে পারে। কিন্তু সেই উত্তর সঠিক, নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ কি না, তা নির্ধারণের দায়িত্ব আপনাদেরই।

তিনি বলেন, প্রযুক্তি উত্তর তৈরি করতে পারে, কিন্তু সেই উত্তর যাচাই করার দায়িত্ব মানুষের। তাই আমি আপনাদের গবেষণা করতে, কৌতূহলী থাকতে এবং যেসব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি, সেগুলো নিয়ে চিন্তা করতে উৎসাহিত করছি। আমাদের এমন মানুষ প্রয়োজন, যাঁরা প্রযুক্তি বুঝবেন, নিজেদের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তার প্রয়োগের সমন্বয় ঘটাবেন এবং স্থানীয় সমস্যার কার্যকর সমাধান তৈরি করবেন।

তিনি আরও বলেন, একটি কার্যকর উদ্ভাবন হতে পারে এমন কোনো যন্ত্র, যা মানুষের সময় বাঁচায়; এমন কোনো সরঞ্জাম, যা চিকিৎসাসেবাকে আরও সাশ্রয়ী করে; কিংবা এমন কোনো উৎপাদনপ্রক্রিয়া, যা কারখানায় অপচয় কমিয়ে আনে। উদ্ভাবনের প্রকৃত মূল্য শুধু প্রযুক্তির অভিনবত্বে নয়, বরং মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারার মধ্যে নিহিত। এ জন্য কোনো সমাধান তৈরির আগে যাঁরা সেটি ব্যবহার করবেন, তাঁদের কথা শুনতে হবে। তাদের সামর্থ্য, প্রয়োজন এবং তারা যে পরিবেশে বসবাস ও কাজ করেন, সেই বাস্তবতা বুঝতে হবে। বিশেষ করে যাঁদের প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত, তাদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। প্রকৌশল ও প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা আরও সহজলভ্য করা যায়, তা খুঁজে বের করতে হবে।