প্রশিক্ষণের আওতায় আসছেন মাধ্যমিকের পৌনে চার লাখ শিক্ষক
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্যবড় ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে ‘নেক্সটজেন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রকল্প’ এর আওতায় প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষককে বিভিন্ন মেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে মাঠপর্যায়ে শুরু হবে।—বাসসের খবর
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এশিয়ার উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪৩ জন শিক্ষকের পেশাগত মানোন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘নেক্সটজেন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রকল্প’ (২০২৭-২০৩১) পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবুজ তালিকাভুক্ত এ প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে মাঠপর্যায়ে শুরু হবে।
অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত লেইস প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৫৬৬ জন শিক্ষকের প্রশিক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে নতুন শিক্ষক, প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকদের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রাখা হয়েছে।
মাউশি অধিদপ্তর জানায়, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ (লেইস) প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৬০ হাজার ৫৬৬ জন শিক্ষকের প্রশিক্ষণের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ হাজার ৮৮০ জন নতুন শিক্ষকের জন্য ৫৬ দিনব্যাপী আবাসিক বেসিক ট্রেনিং এবং ৫৩ হাজার ৭৬০ জন শিক্ষকের জন্য ৪২ দিনব্যাপী আবাসিক প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পাশাপাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (স্কুল-মাদ্রাসা) ২৪ হাজার ৪০০ জন প্রধান শিক্ষকদের জন্য ২১ দিনব্যাপী লিডারশিপ ট্রেনিং, ১১ হাজার জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, কাউন্সিলিং ও বুলিং প্রতিরোধে ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৪০ জন শিক্ষক ও আইসিটি বিষয়ে ২৯ হাজার ৫৮৫জন শিক্ষকের প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই প্রকল্পের অধীনে ১০ হাজার ৩৪০টি প্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার ৬৮০টি স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
লেইস প্রকল্পের পরিচালক প্রফেসর মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইইআর)-এর নেতৃত্বে এবং এনসিটিবি, নায়েম ও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল প্রণয়ন করা হয়েছে। শিক্ষকদের টিচিং কম্পিটেন্সি ১৫ শতাংশ বাড়াতে আইইআর-এর মাধ্যমে একটি গবেষণাধর্মী ‘আর্লি ইমপ্যাক্ট স্টাডি’ পরিচালনা করা হচ্ছে।’
মাউশির পরিকল্পনা শাখা জানায়, প্রযুক্তিনির্ভর শ্রেণিকক্ষ পরিচালনায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৭ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ৭ লক্ষাধিক শিক্ষককে একটি করে আধুনিক ট্যাবলেট-কম্পিউটার প্রদান, প্রতি প্রতিষ্ঠানে অন্তত ১০টি স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, প্রতিটি ক্লাসরুমে একটি করে ইন্টাএ্যাক্টিভ এডুকেশন প্যানেল, ১০০ এমবিপিএস ব্রডব্যান্ড সংযোগ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য একক ‘এডু আইডি’ চালু করা হবে।
আঞ্চলিক পর্যায়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণের অবকাঠামো সুদৃঢ় ও সম্প্রসারণ করতে ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের ৩২টি বৃহৎ জেলায় প্রস্তাবিত ‘হায়ার সেকন্ডারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’ (এইচএসটিটিআই) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষকদের উন্নয়ন প্রকল্পের (এইচএসটিপিডিপি) মাধ্যমে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ লাখ শিক্ষকের জন্য ৩৫ দিনব্যাপী মিশ্র পদ্ধতির (ইএলপি) বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ, ১০ হাজার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের জন্য ২৩ দিনব্যাপী নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ এবং ৪ হাজার গভর্নিং বডি সদস্যের সমন্বিত ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।