০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:১৫

শিক্ষকদের মর্যাদা ফুলের তোড়ায় নয়, থাকতে হবে বেতন-ভাতা-মানসম্মত কর্মপরিবেশের মধ্যে

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন  © সংগৃহীত

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার—শিক্ষকদের মর্যাদা যেন শুধু ফুলের তোড়াতেই সীমাবদ্ধ না থাকে। তার বাস্তব প্রতিফলন থাকতে হবে শিক্ষকদের যথাযথ বেতন-ভাতা, পূর্ণ নিরাপত্তা এবং মানসম্মত কর্মপরিবেশের মধ্যে। বর্তমান এআই ও প্রযুক্তির যুগে শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও তার ব্যবহারিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শিক্ষকদের মতামতকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এক সময় মেধাবী শিক্ষার্থীরাই, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী, শিক্ষকতা পেশায় আসতেন। আজ আমরা সেই স্লোগান থেকে কিছুটা দূরে সরে এসেছি। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে দেশের শ্রেষ্ঠ মেধাবী তরুণরা গর্ব করে বলবে—‘আমরাই হব আগামী দিনের শিক্ষক।’ সোমবার (৫ অক্টোবর) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আগে এই দিবসে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে পুরস্কৃত করা হতো, সেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১০২ জনে উন্নীত করেছেন। সকালে গুরুত্বপূর্ণ সভা এবং বিকেলে কেবিনেট মিটিং—এমন অত্যন্ত ব্যস্ত সূচির মাঝেও স্বল্প সময় বের করে তিনি প্রতিটি শিক্ষককে নিজ হাতে মেডেল পরিয়ে, টাকার চেক ও সনদপত্র দিয়ে সম্মানিত করার এই সুন্দর আয়োজন করেছেন।’

তিনি বলেন, আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক হলেন আমাদের বাবা-মা। তাঁদের কাছ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষার ভিত্তি নিয়েই সন্তানরা যখন স্কুল-কলেজে পা রাখে, তখন থেকে দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের চরিত্র ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষকরা। একটি শ্রেণিকক্ষে একজন শিক্ষক শুধু প্রতিদিন পাঠদানই করেন না, বরং তিনি প্রতিদিনের কাজের মাধ্যমে আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তোলেন। ন্যায়সঙ্গত আচরণ, উপযুক্ত শিক্ষা প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করাই শিক্ষকদের প্রধান কাজ।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমার স্মৃতিতে স্পষ্ট ভেসে ওঠে—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তৎকালীন গুণী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘হিজবুল বাহার’-এ ভ্রমণ করেছিলেন। সৌভাগ্যবশত আমিও সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তিনি সেদিন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আমাদের জাতীয় সম্পদ অন্বেষণ ও বিকাশে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিলেন।’

তিনি বলেন, হিজবুল বাহারে উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছিলেন—‘এই হিজবুল বাহারই হলো আমাদের বাংলাদেশ, আর আমাদের রয়েছে অবারিত সম্পদ। তোমরাই হবে আগামী দিনের ক্যাপ্টেন।’ সেই দেশপ্রেমিক নাগরিক ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়ার মহান দায়িত্ব আজ আমাদের শিক্ষকদের হাতেই। শিক্ষকগণই আগামী দিনের বাংলাদেশের মূল নির্মাতা।

আরও খবর: বিগত সরকারের লুটপাটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পাওনা থমকে ছিল

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বেসরকারি শিক্ষকদের বেতনের শতকরা ৫০ ভাগ এমপিওভুক্তির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছিলেন, বেগম খালেদা জিয়া তাকে শতভাগে উন্নীত করে শিক্ষকদের মর্যাদাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। একই সাথে শিক্ষকদের অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি বেতন স্কেল বৃদ্ধি এবং অবসরভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের সূচনা করেছিলেন।

আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষকদের অধিকার ও অবসরকালীন সুবিধা প্রাপ্তিকে সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি স্বয়ংক্রিয় অনলাইন সিস্টেম চালু করে সম্প্রতি প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার শিক্ষকের হাতে কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পৌঁছে দিয়েছেন। আমরা যাদের হাতে আমাদের সন্তাদের ভবিষ্যৎ সঁপে দিই, তাঁদের নিজেদের ভবিষ্যৎ ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষকের দৃষ্টি থাকতে হবে শ্রেণিকক্ষের একদম শেষ বেঞ্চে বসে থাকা রূপময় বা লাজুক শিশুটির দিকেও। সেই চুপচাপ বসে থাকা পেছনের বেঞ্চের শিশুটিকে ডেকে আনা, সাহস দেওয়া এবং তার ভেতর স্বপ্ন জাগিয়ে তোলাই শিক্ষকের সবচেয়ে বড় সার্থকতা। কারণ, আজকের সেই পেছনের বেঞ্চের শিক্ষার্থীই আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রথম সারিতে নেতৃত্ব দিতে পারে। সরকার শিক্ষক সমাজের প্রতিটি প্রয়োজনে পাশে থাকবে এবং তাঁদের সকল সুযোগ-সুবিধা দেখবে বলেও জানান তিনি।