দেশে ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে যে সমন্বয় দরকার, তা এখনো যথেষ্ট নয়
ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা তরুণ মেধা শক্তিই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ উল্লেখ করে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘আজকের নতুন যুগে এআই এবং আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় শিক্ষার ধরন বদলে গেছে। আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হলে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার শিক্ষায় যে বাজেট ও গুরুত্ব দিচ্ছে, তার সুফল পাবে তরুণ প্রজন্ম।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে যে সমন্বয় বা লিংকেজ থাকা দরকার, তা এখনো যথেষ্ট নয়। চীন বা উন্নত বিশ্বে দেখা যায়, বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ভেতরেই কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকে। সেখানে প্রাকটিক্যাল ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হয় এবং কোম্পানিগুলো তাদের সরাসরি হায়ার (নিয়োগ) করে।’
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে মার্কেটিং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ও মেঘনা গ্রুপ আয়োজিত বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের ২০০ নটিক্যাল মাইল এক্সক্লুসিভ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং প্রায় ৪০০ নটিক্যাল মাইলের মহীসোপান রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের তলদেশের বিশাল খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ এখনো অব্যবহৃত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালেই এই নীল জলরাশির সম্ভাবনা দেখিয়েছিলেন, যা আজ ‘ব্লু ইকোনমি’ হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।
প্রতিটি ঐতিহাসিক অর্জনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনস্বীকার্য উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তোমরা বিশ্ব জয় করো, নতুন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করো, তবে দিনশেষে ফিরে এসো এই নিজ মাতৃভূমিতে। তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ। নিজেদের মেধা, দক্ষতা ও দেশপ্রেম দিয়ে তোমরাই বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।’
আরও খবর: শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই চুয়েটে যোগ দিতে চট্টগ্রামে নবনিযুক্ত উপাচার্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ে পড়াশোনার সময়ের স্মৃতিচারণ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি যখন সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের ভিপি ছিলাম, তখন শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ‘অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন’ ও ‘এলাকা অ্যাসোসিয়েশন’ গঠনে উদ্যোগী হই। তখনকার সময়ে নামমাত্র খরচে মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রাক্তণ শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা প্রয়োজন ছিল।’’
অ্যালামনাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘৪০ বছর পূর্তি উদযাপনের সময় আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম যাতে বেকার অ্যালামনাইদের চাকরির ব্যবস্থা করা যায়। অনুষ্ঠানে আগত তৎকালীন বিভিন্ন সচিব ও মন্ত্রীদের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে অনেক প্রার্থীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।’ মার্কেটিং বিভাগের এই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনও অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশেও এ ধরনের ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া লিংকেজ জোরদার করা প্রয়োজন, যেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া মাত্রই আমাদের শিক্ষার্থীরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। আমাদের তরুণ প্রজন্মের মেধা ও দক্ষতা কোনো অংশে কম নয়। আমি নিজেও বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হয়েও বিদেশে ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং-এ এমবিএ করেছি, যেন সময় ও চাহিদার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারি। পরবর্তীতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।’