দেখা হবে ৫ বছরের পাসের হার, প্রাধান্য পাবে দুর্গম ও দারিদ্র পীড়িত এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিগত ৫ বছরের শিক্ষার্থী সংখ্যা ও পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার বিবেচনায় নেওয়া হবে। একই সাথে অনগ্রসর, দুর্বল, দুুর্গম, দারিদ্র্যপীড়িত ও অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষার হার বিশিষ্ট এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের লক্ষ্যে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ নীতিমালা-২০২৬’ করতে যাচ্ছে সরকার। এজন্য একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর নীতিমালাটি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে একটি সভা হয়েছে। তবে খসড়ায় বেশকিছু সংশোধন থাকায় সেগুলো নিয়ে কাজ করছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘নীতিমালা তৈরির বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। বিষয়টি একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক কিংবা মহাবিদ্যালয়ের নিজস্ব দখল ও মালিকানায় অবস্থিত খেলার মাঠসহ ন্যূনতম ২ (দুই) একর শর্তমুক্ত অখণ্ড নিষ্কণ্টক উপযুক্ত জমি থাকতে হবে। উপজেলা পর্যায়ের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতি শ্রেণিতে ন্যূনতম ৫৫ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। জেলার সদর উপজেলার ক্ষেত্রে শ্রেণি প্রতি ন্যূনতম ১২০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে।
প্রস্তুতকৃত খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, ‘সরকার জনস্বার্থে, স্থানীয় প্রয়োজন, শিক্ষার উন্নয়নের স্বার্থে এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে দেশের যে কোন স্থানে অবস্থিত যে কোন এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করতে পারবে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট সংস্থা/প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরেজমিনে পরিদর্শন করে সরকার প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করবে।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক কিংবা মহাবিদ্যালয়ের নিজস্ব দখল ও মালিকানায় অবস্থিত খেলার মাঠসহ ন্যূনতম ২ (দুই) একর শর্তমুক্ত অখণ্ড নিষ্কণ্টক উপযুক্ত জমি থাকতে হবে। উপজেলা পর্যায়ের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতি শ্রেণিতে ন্যূনতম ৫৫ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। জেলার সদর উপজেলার ক্ষেত্রে শ্রেণি প্রতি ন্যূনতম ১২০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে।
উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতি শ্রেণিতে ৮০ জন করে শিক্ষার্থী থাকতে হবে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রতি বিভাগে ন্যূনতম ১২০ জন, সদর উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শ্রেণি প্রতি ন্যূনতম ১২০ জন, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রতি বিভাগে ন্যূনতম ২০০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে।
মহাবিদ্যালয়ের (স্নাতক) পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রতি বিভাগে ন্যূনতম ১২০ জন, স্নাতক পর্যায়ে প্রতি বিভাগে ন্যূনতম ১৬০, সদর উপজেলায় উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রতি বিভাগে ন্যূনতম ২০০ জন, এবং স্নাতকে প্রতি বিভাগে ন্যূনতম ২৮০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে।
যে সব উপজেলায় কোন সমপর্যায়ের সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই সেখানে অন্যান্য সকল শর্ত পূরণ সাপেক্ষে উপজেলা সদর থেকে ন্যূনতম দূরত্বে অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের লক্ষ্যে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। অন্যদিকে যে সকল উপজেলায় সমপর্যায়ের সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেখানে জাতীয়করণের লক্ষ্যে দূরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এ ছাড়া জাতীয়করণের লক্ষ্যে সহশিক্ষা চালু রয়েছে এরূপ প্রতিষ্ঠানকে প্রাধান্য দেয়া হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়নের বিষয়টি স্থান পেয়েছে। খসড়া নীতিমালার তথ্য বলছে, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সব পাবলিক পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের কমপক্ষে ৯০ শতাংশ অংশ গ্রহণ করতে হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ের পাবলিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে উত্তীর্ণের ন্যূনতম হার ৯০ শতাংশ হতে হবে। উচ্চ মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ এবং স্নাতক (পাস) ৭০ শতাংশ পাসের হার থাকতে হবে। এ ছাড়া বিগত ৫ বছরের পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের গড়ও দেখা হবে।
খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, যে সব উপজেলায় কোন সমপর্যায়ের সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই সেখানে অন্যান্য সকল শর্ত পূরণ সাপেক্ষে উপজেলা সদর থেকে ন্যূনতম দূরত্বে অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের লক্ষ্যে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। অন্যদিকে যে সকল উপজেলায় সমপর্যায়ের সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেখানে জাতীয়করণের লক্ষ্যে দূরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এ ছাড়া জাতীয়করণের লক্ষ্যে সহশিক্ষা চালু রয়েছে এরূপ প্রতিষ্ঠানকে প্রাধান্য দেয়া হবে।
আরও পড়ুন: এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ভুল, দুই বছরের শাস্তি পাচ্ছেন ১৬৮৪ পরীক্ষক
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে গ্রন্থাগার এবং কতগুলো বই থাকতে হবে সেটিও উল্লেখ করা হয়েছে খসড়া নীতিমালায়। নীতিমালার তথ্য বলছে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে ন্যূনতম দুই হাজার বই থাকতে হবে। উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে গ্রন্থাগারে ন্যূনতম তিন হাজার এবং মহাবিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে ন্যূনতম পাঁচ হাজার বই থাকতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমাবেশ (Assembly), বার্ষিক ক্রীড়া, খেলাধুলা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক অনুষ্ঠান, বৃক্ষরোপন, স্কাউটিং ও গার্লস গাইড, কম্পিউটার, বিএনসিসি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি কার্যক্রমে কার্যকর অংশগ্রহণ থাকতে হবে। এ ছাড়া বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের জন্য মান সম্মত ল্যাব সুবিধা থাকতে হবে।
জাতীয়করণ কমিটি
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য প্রস্তাবিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও অগ্রাধিকার তালিকা প্রস্তুতের জন্য অর্থবিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধিসহ একটি স্থায়ী পরিদর্শন কমিটি গঠন করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে খসড়া নীতিমালায়।
কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, উক্ত স্থায়ী পরিদর্শন কমিটি নির্ধারিত মান ও বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক অগ্রাধিকার তালিকা প্রণয়ন করবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা বাজেটে অর্থের সংস্থান/যোগানের হিস্যার সাথে সংগতি রেখে জাতীয়করণার্থে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নির্ধারণ/সীমিতকরণের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
অগ্রাধিকার
জাতীয়করণের ক্ষেত্রে কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রাধিকার পাবে সেটিও উল্লেখ করা হয়েছে খসড়া নীতিমালায়। তথ্য বলছে, আর্থ-সামাজিক ভাবে অনগ্রসর, দুর্বল, দুর্গম, দারিদ্র্যপীড়িত ও অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষার হার বিশিষ্ট এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান; (চর, হাওড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকা) জাতীয়করণে প্রাধান্য পাবে। সংশ্লিষ্ট এলাকার পুরাতন এবং ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাধান্য পাবে। এ ছাড়া আয়তন ও জনসংখ্যার অনুপাতে সর্বনিম্ন সংখ্যক সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংবলিত এলাকা; সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার তারিখ এবং পূর্ববর্তী ৫ (পাঁচ) বছরের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও পরীক্ষার ফলাফল এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে। জাতীয়করণের জন্য প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী অবশ্যই ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি কার্যকর থাকতে হবে।