১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৩৪

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে-স্কেলের পৃথক প্রজ্ঞাপন কবে, যা বলছে মন্ত্রণালয়

শিক্ষা মন্ত্রণালয়  © ফাইল ছবি

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল কাঙ্ক্ষিত নবম জাতীয় বেতন স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। নতুন বেতন স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্তি হওয়ার বিষয়টি আগেই নিশ্চিত হওয়া গেলেও তাদের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। প্রশ্ন উঠেছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করে পৃথক চিঠি কবে জারি করা হবে তা নিয়ে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস কথা বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণায়ের উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে। তারা জানিয়েছেন, দ্রুতই এমপিওভুক্ত জনবলকে পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান, ‘এমপিওভুক্ত জনবল ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্যও পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। বিষয়গুলো নিয়ে কাজ চলছে। শিগগিরই তাদের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি হবে।’

এদিকে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের বেতনের সঙ্গে নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের বর্ধিত বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানা গেছে। আগামী নভেম্বর মাসে গিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্ধিত বেতন পেতে পারেন। তবে আগামীকাল রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত বেতন-ভাতার বিল সাবমিটের সময় থাকায় সরকার চাইলে সেপ্টেম্বরের বেতনের সঙ্গেও নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দিতে পারে।

অর্থ বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতার তথ্য আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়্যারে এন্ট্রি দিতে হয়। প্রতি মাসের ২০ তারিখের মধ্যে এ তথ্য পাঠাতে হয়। ইতোমধ্যে অধিকাংশ সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার তথ্য সাবমিট করেছেন। অনেকে আগামীকাল রবিবার পাঠাবেন। সে হিসেবে সেপ্টেম্বরে বর্ধিত বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আগামীকাল রবিবার পর্যন্ত বেতনের তথ্য আইবাসে পাঠানোর সময়সীমা রয়েছে। সরকার চাইলে সেপ্টেম্বর থেকেই বর্ধিত বেতন দিতে পারে। তবে এই সম্ভাবনা কম। নভেম্বরে গিয়ে অর্থাৎ অক্টোবরের মাস থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের বর্ধিত বেতন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।’

নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ পাবেন। একই সময়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাড়তি মূল বেতনের ৫০ শতাংশ পাবেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই বাড়তি অর্থ গত ৩০ জুন আহরিত বা প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতনকাঠামোতে বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০-২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ হারে পাবেন। আর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বেতন বৃদ্ধির শতভাগ কার্যকর হবে।

গত ১ জুলাই থেকে যেহেতু নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হয়েছে, তাই বকেয়া বেতনও পাবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি নতুন বেতনকাঠামোর অন্য সব ভাতা পাওয়া শুরু করবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একইভাবে পেনশন সুবিধাভোগীরাও নতুন বেতনকাঠামোর যাবতীয় সব সুবিধা পাবেন।

নতুন বেতনকাঠামোতে ১ম থেকে ১০ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। আর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বাড়বে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। আনুপাতিক হারে বিভিন্ন ধরনের ভাতাও বাড়বে।

এর আগে ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। এখন প্রজ্ঞাপন জারি হল। সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটিই সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে।

অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে এ বছরের ২১ জানুয়ারি। কমিশনপ্রধান সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান।