১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:০২

মেধাবী শিক্ষার্থীদের এআই প্রশিক্ষণ না দিলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন  © সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের মেধা কাজে লাগিয়ে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে না পারলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব পেরিয়ে পঞ্চম প্রজন্মের শিল্পায়ন, ন্যানোটেকনোলজি, রোবটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে যেতে হলে শিক্ষার্থীদের এআই প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নবীন বরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রিয় নবীনরা তোমাদের দিকে দেশ তাকিয়ে আছে। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে তোমাদের মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। এই ফিফথ জেনারেশন অব ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনে যদি যেতে হয়, ন্যানোটেকনোলজিতে যেতে হয়, রোবটিক্স দিয়ে যদি কাজ করতে হয়, এআই দিয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের ছাত্রছাত্রীরা মেধায় কোনো অংশে কম নয়।আজকের এই ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমাদের পুনরুদ্ধার করতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। নিজের ভবিষ্যৎ নিজেকেই গড়তে হবে। আমাদের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের আমরা যদি এআই প্রশিক্ষিত না করতে পারি, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে। তাই আবারও তোমাদেরকে বলব, তোমরা নিজেরা ভেবে দেখো, তোমাদের ভবিষ্যৎ কে করবে। নিজের ভবিষ্যৎ নিজের হাতে রয়েছে। নেপোলিয়নের মতো হাতের রেখা কেটে বলতে হবে, আমার ভাগ্য রয়েছে। আমি আমার নিজের ভাগ্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কিন্তু তোমরা সকলেই স্বাধীন। বাবা-মা কেউ কাছে নেই এবং তারা তোমাদের কোনো রকম বাধা-বিপত্তি দিচ্ছেন না। তোমরা তোমাদের মতো লেখাপড়া করছো, তোমরা তোমাদের মতো বেরিয়েছো, তোমরা তোমাদের নিজের জীবন প্রতিষ্ঠিত করতে চাও। অতএব, বুঝতে হবে, এই যে তোমরা স্বাধীন, এই স্বাধীনতাকে কতটুকু তোমরা ব্যবহার করবে, সেই প্রশ্ন তোমাদের আজ জিজ্ঞেস করতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে যেন একটি পুকুরের মাছ যখন বিশাল সমুদ্রে এসে পড়ে, তখন তার সাঁতার কাটার জায়গার অভাব নেই, খাবারের অভাব নেই। তোমরা আজকে বিশাল সমুদ্রে সাঁতার কেটে বেড়াচ্ছ। এখানেই তোমাদের লক্ষ্য স্থির করতে হবে। কোন পথে তোমরা যাবে? তোমাদের ভবিষ্যৎ আজ তোমাদের হাতের মুঠোয়। ভেবো না, তোমাদের ভবিষ্যৎ আমরা তৈরি করে দেব। আজকে নিজেকে ডিটারমাইন্ড হতে হবে। কী হতে চাও? কী করতে চাও? কীভাবে নিজের জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করবে? সেই সময়টা আজ, এখনই।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজকে নবীন বরণ নয়। আজকে সারা জীবনকে কীভাবে তুমি বরণ করবে? আগামী জীবন তুমি কীভাবে চলবে? আগামী বাংলাদেশকে কীভাবে গড়বে, সেই প্রতিজ্ঞা করার সময় আজকে।’

কারিগরি শিক্ষায় পরিবর্তন আনতে চীনের মডেল দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি ভেরি রিসেন্টলি ১৮০ প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে বললাম, আমাকে যদি কারিগরি শিক্ষায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হয়, আমি কিছু মডেল দেখতে চাই। তিনি জানতে চাইলেন, কোনটা দেখতে চাচ্ছেন? আমি বললাম, চীনেরটা দেখতে চাচ্ছি। ইউরোপ-আমেরিকা আমার খানিকটা জানা রয়েছে। আমি চায়না মডেল জানতে চাইলাম।’

তিনি বলেন, ‘তিনি বললেন, বেশ, ঘুরে আসেন। আমি চলে গেলাম চীনে চার দিনের সফরে। দেখে আসলাম, তারা তাদের টিভেট সেক্টর, অর্থাৎ কারিগরি সেক্টর, কীভাবে গড়ে তুলছে। অনেক কিছু শিক্ষণীয় রয়েছে।’

চীনের শিক্ষা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যোগসূত্রের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যে যোগসূত্র রয়েছে, তা বলার অবকাশ রাখে না। যখন তারা লেখাপড়া শিখছে, একই সময়ে কে কোন বিষয়ে পারদর্শী হবে, কে কোথায় কর্মসংস্থানে যাবে, কে কোথায় ইনোভেটর হবে, সেটিও নির্ধারিত হচ্ছে।’