১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৫৮

এসএসসির খাতা দেখায় অবহেলাকারীরা জবাবদিহির আওতায় আসছেন: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন  © ফাইল ছবি

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এসএসসির পুনঃনিরীক্ষণের ফলে ৩ হাজারেও বেশি জিপিএ ৫ পেয়েছে। এবারের এসএসসির খাতা দেখায় যারা অবহেলা করেছেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। 

আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে (আমাই) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী।

আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ ৫ পেয়েছেন। আপনার শিক্ষকরা আমার সামনে বসে আছেন। এটা কি আপনাদের মনে প্রশ্ন আসে না? হঠাৎ করে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়ে গেল। প্রশ্নটা কী আসে? কেন?’

তিনি বলেন, ‘আজকে যদি আমি পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট ১৯৮০-তে খাতা পুনঃপরীক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি না করতাম, এই ৩ হাজার শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ থেকে বঞ্চিত হতো কি না? বঞ্চিত হতো। তাহলে এর প্রমাণ কী? আমাদের খাতা পরীক্ষণের মধ্যে সমস্যা রয়েছে বলেই তো এই ৩ হাজার শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এখান থেকে আমরা কী শিক্ষা পেলাম? এক্সামিনার ট্রেনিং প্রোগ্রাম আমাকে করাতেই হবে। যে পরীক্ষক খাতাগুলো ঠিকমতো দেখেননি, তাঁকে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হবে। শুধু নম্বর দিয়ে দিয়ে আমি চুপচাপ বসে থাকব, তা হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আগের নিয়ম ছিল, ট্যাবুলেশন শিটের যোগফল ঠিক আছে কি না, সেটা দেখা হবে। কিন্তু খাতার ভেতরে পরীক্ষক ঠিকমতো দেখেছেন কি না, আন্ডারমার্কিং বা ওভারমার্কিং করেছেন কি না, তা দেখার সুযোগ ছিল না। এই সুযোগ দেওয়ায় অনেকে অপব্যবহারও করেছেন। অনেক ক্ষেত্রেই আমাকে অনেক বেশি খাতা দেখতে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। পরিবর্তন হয়েছে। তাহলে ডিফল্ট পরীক্ষকদের মধ্যেই ছিল। আই মাস্ট গো ব্যাক অ্যান্ড ভেরিফাই থিং। আমি খাতাগুলো আলাদা রেখেছি।’

অন্য খবর: দেশের কোন ক্লাসরুমে শিক্ষকরা কীভাবে নিচ্ছেন, সেটাও ‘রিয়েল টাইম’ তদারকি হবে

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘টিচিং প্রফেশনে আসলেও আমাদের শিক্ষকরা অনেক সময় হাল ছেড়ে যায়। এটা তাদের দোষ নয়। আমাদের প্রয়োজন তাদেরকে গাইড করা, মোটিভেট করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া। আমাদেরকে শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতেই হবে। না আনলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এজন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। 

এ ছাড়াও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকরা উপস্থিত রয়েছেন। শিক্ষাবৃত্তি অনেক আগে থেকে চালু থাকলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এবারই প্রথমবারের মতো ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড চালু হলো।