রাজনৈতিক নেতাদের হাতেই ফিরছে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির পদ
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবারও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ার সুযোগ পেতে যাচ্ছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। যদিও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া এমন সিদ্ধান্ত বাতিল করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তবে পুরোনো সেই নিয়ম আবারও ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার।
রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাপক্ষে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অনুমোদনের পর এটি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনোনয়ন সংক্রান্ত নতুন প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ‘গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নের লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, ক্ষেত্রমত বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের সহিত আলোচনাক্রমে স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি বা স্থানীয় খ্যাতিমান সমাজসেবকগণের মধ্য হইতে তিন জন ব্যক্তির নাম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত সংবলিত প্রস্তাব শিক্ষা বোর্ডের নিকট প্রেরণ করিবেন।’
২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত সংশোধিত বিধামালায় রাজনৈতিক নেতাদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ বাতিল করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সংশোধিত বিধিমালায় বলা হয়েছিল, গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নের লক্ষ্যে প্রবিধান ৬ এর উপপ্রবিধান ১ এ উল্লিখিত শিক্ষাগত যোগ্যতা সাপেক্ষে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, ক্ষেত্রমত, বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের সহিত আলোচনাক্রমে নিম্ন বর্ণিত ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে ৩জন ব্যক্তির নাম ও জীবন বৃত্তান্তসম্বলিত প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(ক) সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৯ম গ্রেডের নিম্নে নহে এইরূপ কোন কর্মকর্তা অথবা ৫ম গ্রেডের নিম্নে নহে এইরূপ আগ্রহী অবসরপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা; (খ) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজে কর্মরত কোনো সহযোগি অধ্যাপক বা অধ্যাপক; (গ) সংশ্লিষ্ট বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং (ঘ) এমবিবিএস অথবা প্রকৌশল বা কৃষিসহ যে কোনো কারিগরী বিষয়ে ৪ বৎসর মেয়াদী স্নাতক ডিগ্রিসহ সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৯ম গ্রেডের নিম্নে নহে এইরূপ কোন কর্মকর্তা অথবা ৫ম গ্রেডের নিম্নে নহে এইরূপ আগ্রহী অবসরপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা।’
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্ণিং বডির সভাপতি পদে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির অর্থ হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পুনরায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা। যদিও এ পদে অন্যদেরও সুযোগ রয়েছে; তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির নাম আসলে অন্যদের এ পদে বসার সুযোগ কম।’