০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৩০

রাজনৈতিক বিবেচনায় স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষামন্ত্রীর না

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন  © সংগৃহীত

বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি কোনো দলীয় বা রাজনৈতিক বিবেচনায় গঠন করা বর্তমান সরকারের নীতি নয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, প্রচলিত প্রবিধান, পরিপত্র, নির্ধারিত যোগ্যতা ও বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এসব কমিটি গঠন করতে হবে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে টেবিলে উত্থাপিত বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান। এর আগে বিকেলে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের প্রচলিত প্রবিধানমালা, পরিপত্র এবং নির্ধারিত যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত প্রচলিত বিধানে যেভাবে নির্ধারিত রয়েছে, সেভাবেই বিবেচনা করা হবে। তবে কোনো একক ব্যক্তি বা পক্ষের মতামত কমিটি গঠনের একমাত্র নির্ধারক হতে পারে না।

এ্যাডহক কমিটি গঠনে নতুন নির্দেশনা

শিক্ষামন্ত্রী জানান, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা আনতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা ও অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের অধীন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি সংক্রান্ত ‘প্রবিধানমালা, ২০২৪ (সংশোধনীসহ)’ অনুসরণ করে এ্যাডহক কমিটি গঠনের বিষয়ে গত ১৬ মার্চ একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

পরিপত্রে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে এ্যাডহক কমিটি গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তের পরিবর্তে নির্ধারিত বিধি ও প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অনিয়ম হলে কমিটি বাতিলের সুযোগ

কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে অনিয়ম, অযোগ্য বা অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা কিংবা প্রচলিত বিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে তা যাচাই করা হবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত প্রবিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কমিটি বাতিল বা পুনর্গঠন করা হতে পারে। একই সঙ্গে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

নতুন প্রবিধানমালা প্রণয়নের কাজ চলছে

ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও যুগোপযোগী করতে নতুন প্রবিধানমালা প্রণয়নের কাজও চলমান রয়েছে বলে সংসদকে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা (নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ প্রণয়নের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান।

প্রস্তাবিত প্রবিধানমালায় কমিটির সদস্যদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার মানদণ্ড আরও স্পষ্ট করা, অভিভাবক ও শিক্ষক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং স্বার্থের সংঘাত প্রতিরোধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া কমিটি গঠনের তথ্য প্রকাশ, অভিযোগ ও আপিল নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা এবং শিক্ষা বোর্ডের তদারকি আরও জোরদারের বিষয়ও প্রস্তাবিত প্রবিধানমালায় বিবেচনা করা হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন প্রবিধানমালা চূড়ান্ত ও কার্যকর হলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠনে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো অযাচিত প্রভাব কমানোর পাশাপাশি যোগ্য, সৎ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে অভিভাবক-শিক্ষক প্রতিনিধিত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়িয়ে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াকে আরও অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক করা সম্ভব হবে।