০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৩৬

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তি তিন বিষয়ের ওপর

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক  © ফাইল ছবি

নবম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষিত হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এর আওতায় নিয়ে আসার বিষয়টি তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আজ তার পক্ষে সংসদে জবাব দেন।

মন্ত্রী জানান, নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষিত হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উক্ত বেতন স্কেলের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, আর্থিক সংশ্লেষ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতির ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। এ বিষয়ে সরকার কর্তৃক সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরো জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ প্রচলিত এমপিও নীতিমালা, সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ এবং বরাদ্দকৃত বাজেট অনুযায়ী দেয়া হয়।

দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যন্ত ও অনুন্নত অঞ্চলের মেধাবী কিন্তু দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য মোট আসনের ৩ শতাংশ সংরক্ষিত রয়েছে। এসব আসনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও অন্যান্য ফি মওকুফের বিধান রয়েছে বলে জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষে তিনি এ তথ্য জানান।

জয়নাল আবদিন জানতে চান, দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করা নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার খরচ সহজলভ্য করার লক্ষ্যে সরকার কোনও পদক্ষেপ নেবে কিনা।

জবাবে ববি হাজ্জাজ বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার ব্যয় সহজলভ্য করার লক্ষ্যে আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ধারা ৯(৪) অনুযায়ী প্রত্যেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসনের ৩ শতাংশ প্রত্যন্ত ও অনুন্নত অঞ্চলের মেধাবী অথচ দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষণ করতে হয়। এসব আসনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে টিউশন ফি ও অন্যান্য ফি মওকুফের বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর অ্যাকাডেমিক ফলাফল, পরিবারের আর্থিক অবস্থা এবং বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনায় বিভিন্ন হারে বৃত্তি, শিক্ষাবৃত্তি এবং টিউশন ফি মওকুফ বা হ্রাসের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ফলে নিম্নবিত্ত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরাও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পায়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনের এ বিধান যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংরক্ষিত আসনে ভর্তি, ফি মওকুফ ও বৃত্তি প্রদানের তথ্য পরিবীক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে সুবিধাভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা, যোগ্য শিক্ষার্থীদের কাছে তথ্য পৌঁছানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বৃত্তি ও ফি মওকুফের তথ্য প্রকাশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।