সরকারিকরণের ৮ বছর পর ৫ শিক্ষককে এডহক নিয়োগ দিল মন্ত্রণালয়
সরকারিকরণের প্রায় আট বছর পর নওগাঁর পোরশার নিতপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে কর্মরত পাঁচ শিক্ষককে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকারীকৃত কলেজ শিক্ষক ও অ-শিক্ষক কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী তাদের এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব তানিয়া ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণের প্রেক্ষিতে সেখানে কর্মরত পাঁচ শিক্ষককে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগ পাওয়া পাঁচ শিক্ষক হলেন—মো. শফিকুল ইসলাম, মো. গুলজার রহমান খান, মো. মাইদুর রহমান, মো. মিনহাজুর রহমান ও মো. মিজানুর রহমান।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মো. শফিকুল ইসলামকে পরিসংখ্যান বিষয়ের নন-ক্যাডার প্রভাষক পদে এডহক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার নিয়োগের তারিখ ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি। জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী এ পদের বেতন ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা, যা গ্রেড-৯।
মো. গুলজার রহমান খানকে ইংরেজি বিষয়ের নন-ক্যাডার প্রভাষক পদে ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি থেকে এডহক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই তারিখ থেকে মো. মাইদুর রহমানকে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের নন-ক্যাডার প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া মো. মিনহাজুর রহমানকে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের নন-ক্যাডার প্রভাষক পদে ২০২৩ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে এবং মো. মিজানুর রহমানকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের নন-ক্যাডার প্রভাষক পদে ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি থেকে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাঁচটি পদেরই বেতন স্কেল ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা এবং গ্রেড-৯।
প্রজ্ঞাপনে এডহক নিয়োগের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সরকার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিতে হবে। প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে তাদের চাকরি নিয়মিতকরণ ও স্থায়ীকরণ করা হবে।
এ ছাড়া কোনো শিক্ষক কোনো বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করে থাকলে বা বিয়ে করার অঙ্গীকার করে থাকলে এ নিয়োগ বাতিল বলে গণ্য হবে। আদেশ জারির তারিখ থেকে সংশ্লিষ্টদের মাসিক পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) বাতিল বলে গণ্য হবে এবং তারা সরকারি বিধি অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, নিতপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে আত্তীকৃত কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে বদলি হতে পারবেন না। প্রজ্ঞাপনে কোনো বিষয় নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলে তাদের চাকরির ক্ষেত্রে সরকারের প্রচলিত বিধি ও আদেশ প্রযোজ্য হবে। একই সঙ্গে সরকার প্রণয়ন করবে বা ইতোমধ্যে প্রণীত করেছে—এমন বিধি-বিধান অনুযায়ী তাদের চাকরি পরিচালিত হবে।
কোনো শিক্ষক চাকরির জন্য দাখিল করা কোনো সনদ জাল অথবা কোনো তথ্য ভুল বা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হলে তার নিয়োগ বাতিল করা হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রাক-চাকরি চরিত্র যাচাইয়ের প্রতিবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের সন্তোষজনক হতে হবে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) সুপারিশ প্রয়োজন হলে তা পাওয়ার পর যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাদের চাকরি নিয়মিতকরণ ও স্থায়ীকরণ করা হবে।