৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৫৮

রোজার পরেই এসএসসি পরীক্ষা, এইচএসসি পেছানোরও কারণ দেখছি না

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন  © সংগৃহীত

রমজানের কারণে এসএসসি পরীক্ষা নির্দিষ্ট একটা সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও রিভিউয়ের সুযোগ দিতে পরীক্ষা রোজার পরেই নেওয়া হবে। আর আপাতত এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর কোনো কারণ দেখছি না।

সোমবার (৩১ আগস্ট) চীন সফর শেষে কারিগরি বোর্ডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা সামগ্রিক দিক বিবেচনা করেছি। আমরা যদি জানুয়ারিতে পরীক্ষা নিই, তাহলে এক মাস ধরে পরীক্ষা নিতে হবে। জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু করলে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলে যাবে। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান শুরু হবে এবং ১০ মার্চ পর্যন্ত চলবে।

আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে—এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য করা। আমাদের দেশে সাধারণত বর্ষা বা বৃষ্টির মৌসুমে এসএসসি পরীক্ষা হয়। আমরা এটাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়ে আসতে চাই। একইভাবে এসএসসি পরীক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাও একটি নির্দিষ্ট সময়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। বিদেশে যারা যায়, তাদের ক্ষেত্রেও শিক্ষাব্যবস্থার সময়সূচির সঙ্গে বিষয়টি সমন্বয় করা হয়। সবকিছু বিবেচনা করে আমাদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মাস হচ্ছে ফেব্রুয়ারি। কিন্তু রমজানের কারণে ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এখন যখন স্টেকহোল্ডারদের অনুরোধে আমরা পরীক্ষা এগিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করলাম, তখন দেখলাম—ক্লাস টেনের পরীক্ষা শেষ হয়েছে এবং সিলেবাস ও কারিকুলামও কাভার হয়েছে। কিন্তু ক্লাস নাইনের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তারা তাদের পড়াশোনা রিভিউ করার পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছে না। এই রিভিউ প্রক্রিয়াটিও গুরুত্বপূর্ণ।

ড. মিলন আরও বলেন, আমরা যদি রমজানের পরে পরীক্ষা নিই, তাহলে সেটি আবার অনেকটা বিলম্বিত হয়ে যাচ্ছে। যেহেতু রমজান একটি বাস্তবতা, তাই এর সঙ্গে আমাদের সমন্বয় করতেই হবে। আবার জানুয়ারিতে পরীক্ষা নিয়ে এলে ক্লাস নাইনের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা রিভিউ করার সুযোগ কমে যায়।

সবকিছু বিবেচনা করে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই আমরা পরীক্ষা এগিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু রমজানের কারণে এবার সেটি এগিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাই না। তাদের যথেষ্ট সুযোগ দিতে হবে, বিশেষ করে রিভিউ করার জন্য। এ কারণে অনেক বিষয় বিবেচনা করে আমরা আবারও সিদ্ধান্তে এসেছি যে, পরীক্ষা রমজানের পরেই নেওয়া হবে। কেউ কেউ চেয়েছিলেন রমজানের আগে পরীক্ষা নেওয়া হোক। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আপাতত এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর কোনো কারণ আমরা দেখছি না। জাতীয় পর্যায়ে কোনো বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি না হলে আমাদের কাছে বর্তমানে পরীক্ষা পেছানোর কোনো কারণ নেই। কারণ শিক্ষার্থীদের আমরা যথেষ্ট সময় দিয়েছি। প্রায় দেড় বছর আগেই তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তারা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে।