৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৫৭

চীন সফরে ৫ অর্জনের কথা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন  © সংগৃহীত

চীন সফর শেষে পাঁচটি বড় অর্জনের কথা জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভেট) খাতে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে সফরে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। গত ২৬ থেকে ২৮ আগস্ট শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল চীন সফর করেন। সফর শেষে আজ  সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সফরের বিভিন্ন দিক ও অর্জন তুলে ধরেন মন্ত্রী।

এর আগে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল গত ২৬ থেকে ২৮ আগস্ট চীন সফর করে। প্রতিনিধিদলে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া অংশগ্রহণ করেন।

সফরের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল চীনের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বা টিভেট মডেল এবং এর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেওয়া। একই সঙ্গে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, আধুনিক কারিগরি গবেষণাগার ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সুবিধা স্থাপন এবং চীনা ভাষার সহায়তাসম্পন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়।

সফরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চীনে প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ গ্রহণের সুযোগ তৈরি এবং বাংলাদেশে কার্যরত চীনা শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

সফরের পাঁচ প্রধান অর্জন

চীন সফরের প্রধান অর্জন হিসেবে পাঁচটি উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো—

১. ‘তিয়ানগং’ জিয়াংসি কারিগরি শিক্ষা আন্তর্জাতিক জোটের সদস্যপদ অর্জন।

২. চীন-বাংলাদেশ শিল্প-শিক্ষা সমন্বয় আন্তর্জাতিক সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা।

৩. চীন-বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা।

৪. বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা।

৫. বাংলাদেশ-চীনা ভাষা-কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা।

এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে

চীন সফরে কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নের পাশাপাশি কয়েকটি বিষয়কে কৌশলগত অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আধুনিক কারিগরি গবেষণাগার ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সুবিধা তৈরি, চীনা ভাষা প্রশিক্ষণ এবং জাতীয় পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরি এবং কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে কার্যরত চীনা শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার সংযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল।

চীনের টিভেট মডেল ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার পরিধি ও মান বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরির বিষয়টি সফরের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

উল্লেখ্য শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল গত ২৬ থেকে ২৮ আগস্ট চীন সফর করে। প্রতিনিধিদলে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া অংশগ্রহণ করেন।