এসএসসির অকৃতকার্যদের জন্য বিশেষ পলিসি করবে সরকার, উদ্যোক্তা হতে দেবে টাকাও
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। যারা প্রচলিত ধারার পড়াশোনায় এগোতে পারবে না তাদের ঝরে পড়া ঠেকাতে বিকল্প পথ তৈরি হচ্ছে। তাদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে ব্যবসা বা উদ্যোগ শুরু করতে আর্থিক সহায়তাও দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।
আজ রবিবার (৩০ আগস্ট) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘আগের সরকার এসব অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভাবেনি। কিন্তু আমরা তাদের জন্য বিশেষ পলিসি তৈরি করছি।’ মূলত শিক্ষা স্রোতধারা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে তাদের বোঝা হিসেবে চায় না রাষ্ট্র। এজন্য এমন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
এছাড়াও কোনো শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেই তার শিক্ষাজীবন বা কর্মজীবনের পথ বন্ধ হয়ে যাবে এমন ব্যবস্থা থাকা উচিত নয়। বরং তাদের সক্ষমতা ও আগ্রহ অনুযায়ী বিকল্প শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ কিংবা উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে বলেও জানান তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, ‘এসব তরুণদের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল কোর্সে যুক্ত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে।’
এ ক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনায় আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও রয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ব্যবসা বা স্ব-কর্মসংস্থানের জন্য অর্থ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষা উপদেষ্টার ভাষ্য, ‘প্রয়োজনে তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।’
এই বিশেষ নীতির আওতায় কতজন শিক্ষার্থীকে নেওয়া হবে, কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, কোন প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন করবে এবং উদ্যোক্তা হতে আগ্রহীদের কী পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কাঠামো প্রকাশ করা হয়নি।
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এর আগে ২০২৫ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হারও কমেছে।