বদলি বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের সুযোগ চান ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা
সদ্য প্রকাশিত বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের সুযোগ দাবি করেছেন ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। এ দাবিতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে মো. মোতাছিম বিল্লাহ, তানভীর হাসান, রুবা আক্তার এবং সন্দীপ রায় এ স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা-২০২৬ (সংশোধিত) জারির মাধ্যমে যে ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার জন্য আমরা আপনার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। তবে এই নীতিমালার ন্যূনতম ২ বছর চাকরি পূর্ণ হওয়ার শর্তের কারণে মাত্র ১০-১৫ দিনের সামান্য সময়ের ব্যবধানে এক বিশাল অংশ বঞ্চিত হওয়ায়—৫ম গণবিজ্ঞপ্তির শিক্ষকদের মধ্যে একটি চরম বৈষম্য ও মানসিক কষ্টের সৃষ্টি হয়েছে।
তারা জানান, ‘৫ম গণবিজ্ঞপ্তি একটি একক ব্যাচ এবং একই দিনে আমাদের সকলকে চূড়ান্ত সুপারিশপত্র দেওয়া হয়েছিল, তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং ব্যাচভিত্তিক সমতা বজায় রাখতে বদলি বিজ্ঞপ্তিতে ২ বছর পূর্তির সময়সীমা আগামী ১৫ অথবা ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত বা শিথিল করার করার দাবি জানাচ্ছি। এই সামান্য ১০-১৫ দিনের যৌক্তিক সময়টুকু বিবেচনা করে ৫ম গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। নিয়োগপ্রাপ্ত সকল ভুক্তভোগী শিক্ষককে বদলি আবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দিয়ে আমাদের এই চরম মানসিক কষ্ট ও দূর-দূরান্তের কর্মজীবনের কষ্ট থেকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তারা।’
স্মারকলিপিতে শিক্ষকরা নিজেদের পক্ষে ৬টি যুক্তি তুলে ধরেন সেগুলো হলো-
১. নিয়োগের সময়সীমা ও যোগদানের বাস্তবতা: ৫ম গণবিজ্ঞপ্তির চূড়ান্ত সুপারিশপত্র গত ২১ আগস্ট ২০২৪ তারিখে প্রকাশিত হয়েছিল এবং যোগদানের শেষ সময় ছিল ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত।
২. প্রতিষ্ঠানগত বিলম্বের দায় শিক্ষকদের নয়: চূড়ান্ত সুপারিশের পর অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়োগপত্র দিতে এবং অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া শেষ করতে দেরি করা হয়েছিল। এতে চাকরিপ্রার্থী হিসেবে আমাদের কোনো হাত বা করণীয় ছিল না। প্রতিষ্ঠানের এই বিলম্বের কারণে আমাদের অনেকেই ১ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ এর মধ্যে যোগদান করতে বাধ্য হই।
৩. সামান্য কয়েক দিনের জন্য চরম বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা: চলমান বদলি প্রক্রিয়ায় ২ বছর পূর্ণ হওয়ার সময়সীমার কারণে আমাদের অনেকেরই মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিন সময় কম পড়ছে। সামান্য কয়েকটা দিনের এই ব্যবধানের কারণে আমরা এই বিশাল সুযোগ থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হতে যাচ্ছি।
৪. সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য: অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় যে, ৫ম গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে যারা আগস্ট ২০২৪ এর শেষের দিকে যোগদান করেছিলেন, তাদের অনেকে ইতিমধ্যে বদলির আইডি-পাসওয়ার্ড পেয়েছেন। অথচ সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে যোগদান করেও আমাদের একটি বড় অংশ এখনও তা পাইনি, যা চরম বৈষম্যমূলক।
৫. একই ব্যাচের মধ্যে বিভাজন: একই পণবিজ্ঞপ্তির শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানের কারণে একদল বদলির আবেদন করতে পারছেন, আর অন্য দল পরবর্তী দুই বা তিন বছরের জন্য সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছেন।
৬. পারিবারিক ও মানবিক বিপর্যয় আমাদের এই ব্যাচের অধিকাংশ শিক্ষকই নিজ জেলা থেকে ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে, দুর্গম বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে অত্যন্ত স্বল্প বেতনে কর্মরত আছেন। সামান্য কয়েক দিনের জন্য এই বিশাল সুযোগটি হারালে নারী শিক্ষক, অসুস্থ পিতা-মাতা এবং ছোট শিশু নিয়ে জীবনযাপন করা অনেকের জন্যই অসম্ভব হয়ে পড়বে।