১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৩৬

নতুন বই: চুক্তি হলেও ছাপার কাজ শুরু করেনি ১১ প্রেস, বৈঠকে বসল এনসিটিবি

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড  © টিডিসি সম্পাদিত

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণের জন্য প্রাক-প্রাথমিকের জন্য চুক্তি হলেও এখনো কাজ শুরু করতে পারেনি ১১টি প্রেস। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) নিয়ম অনুযায়ী চুক্তি হওয়ার দিন থেকেই কাজ শুরু করতে হয়। তবে সপ্তাহ পার হতে চললেও কোনো ধরনের ছাপার কাজ শুরু করতে পারেনি প্রেস মালিকরা। ফলে তাদের নিয়ে আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) একটি বৈঠক করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার দিন থেকেই পাঠ্যবই ছাপার কাজ শুরু করার নিয়ম থাকলেও প্রাক-প্রাথমিকের কাজ পাওয়া ১১টি প্রেস কেন কাজ শুরু করেনি, সে বিষয়ে জানতেই আজকে প্রেস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রেসগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি জানতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রাক-প্রাথমিকের ৩০টি লটের জন্য ১১টি প্রেস ছাপার কাজ পেয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি লট পেয়েছে অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস (৪টি লট) ও সরকার প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং (৩টি লট) প্রেস। গত ১২ আগস্ট ৩০টি প্রেসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় এনসিটিবি। নিয়ম অনুযায়ী, চুক্তির দিন থেকেই কাজ শুরু করার কথা থাকলেও সপ্তাহ পার হতে চললেও এখনো কাজ শুরুই করতে পারেনি প্রেসগুলো।

আরও পড়ুন: টেস্টের পর সময় কমছে এবার—জানুয়ারির শুরুতেই ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা

জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিকে মোট পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০। সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪ কোটি ৪১ লাখ ৩৮ হাজার ৯২৩ টাকা। চুক্তির দিন থেকে ৭০ দিনের মধ্যে ছাপার কাজ শেষ করে বিতরণ কেন্দ্রে পৌঁছানোর নিয়ম রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেরিতে ছাপার কাজ শুরু হলে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছাতেও দেরি হবে। এতে ক্ষতির মুখে পড়বে তারা।

প্রাথমিক, ইবতেদায়ী, ৬ষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের আজ নোয়া (নোটিশ অব অ্যাওয়ার্ড) প্রদান করা হয়েছে অর্থাৎ কোন কোন প্রেস কাজ পেয়েছে তা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরে তাদের পিজি (পারফরম্যান্স গ্যারান্টি) দেওয়া হবে এবং চুক্তি করা হবে। নোয়া দেওয়ার দিন থেকে ১৪ দিনের মধ্যে চুক্তিবদ্ধ হতে হবে। এনসিটিবি বলছে ৩/৪ দিনের মধ্যে চুক্তি করার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। তবে প্রেসগুলোর আন্তরিকতা থাকলে তা সম্ভব হবে। প্রাথমিক, ইবতেদায়ী, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের কাজ কতগুলো প্রেস পেয়েছে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।

প্রাথমিকে মোট বিষয় ৩৩টি, লট সংখ্যা ১১০ ও পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ৭ কোটি ৬২ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫৮। সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২৪ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫৫টাকা।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৩২টি। সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৮ লাখ ২৫ হাজার ১২৪ টাকা। এ ছাড়াও ৪র্থ শ্রেণির নতুন ২টি বিষয়ের লটের সংখ্যা ১২টি। সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২ লাখ ৫৫ হাজার ৮৬০ টাকা। সবমিলিয়ে প্রাথমিকে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০৩ কোটি ৫৯ লাখ ৫৭ হাজার ৪২১ টাকা।

আর ইবতেদায়ী ও মাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা প্রায় ২২ কোটি। ইবতেদায়ীতে লটের সংখ্যা ৩৫টি, আর ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণি পাঠ্যবইয়ে লটের সংখ্যা যথাক্রমে ৭৫টি।

এদিকে অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের মূল্যায়নকৃত বই বা নথি শেডে (shed) পাঠানো হয়েছে। শেড থেকে আসার পর সিসিজিপিতে (সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি) পাঠানো হবে, সিসিজিপির পর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যাবে, তারপর নোয়া  (নোটিশ অব অ্যাওয়ার্ড) প্রদান করা হবে। আর ৯ম শ্রেণির বইয়ের মূল্যায়ন চলমান রয়েছে। অর্থাৎ ক্রয় কমিটি ৮ম ও ৯ম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের এখনো অনুমোদন করেনি। মানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, প্রাক-প্রাথমিকের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, শিগগিরই প্রেসগুলো ছাপার কাজ শুরু করবে। সার্বিক বিষয় নিয়ে আজ প্রেস মালিকদের সঙ্গে একটি সভা করব।

তিনি বলেন, প্রাক-প্রাথমিকের বিষয়ে চুক্তি হয়ে গেছে। নিয়ম অনুযায়ী তারা ছাপার কাজ শুরুর কথা থাকলেও এখনো শুরু করেনি। তবে দুয়েকদিনের মধ্যে করে ফেলবে। আর প্রাথমিক, ইবতেদায়ী, ৬ষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের আজ নোয়া প্রদান করা হয়েছে। নোয়ার দিন থেকে ১৪ দিনের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়ে থাকে। আর অষ্টম ও ৯ম শ্রেণির বইয়ের বিষয়ে কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব প্রেসকে ছাপার কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।