১৮ জুলাই ২০২৬, ১৯:৩৬

বদলির পূর্বে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে কী হবে?

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক  © ফাইল ছবি

বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষকদের প্রথমবারের মতো স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি চালু করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। স্কুল-কলেজে বদলির জন্য ইতোমধ্যে তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। তবে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষকদের বদলি সফটওয়্যার প্রস্তুত হয়নি। এরই মধ্যে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনুমতি চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। ফলে প্রশ্ন উঠেছে বদলি চালুর পূর্বে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে কী হবে?

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বদলি প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পূর্বে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে তেমন একটা সমস্যা হবে না। সমস্যা হবে যদি বদলি চালুর পূর্বে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে যায়। তখন শিক্ষকরা নিজ জেলায় বা নিজ বাড়ির পাশের প্রতিষ্ঠানে ফিরতে পারবেন না। কেননা শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ হয়ে গেলে শূন্য পদগুলো ব্লক হয়ে যাবে।

সূত্রের তথ্য বলছে, স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে বিড়ম্বনা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাদের পদ ব্লক হওয়ার সম্ভাবনাও কম। কেননা মাউশি ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ভ্যালিডেশন কার্যক্রম শুরু করেছে। সমস্যা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের।

এর কারণও ব্যাখ্যা করে সূত্রটি দাবি করেছে, স্কুল-কলেজের বদলি কার্যক্রম আগস্টে শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জুলাই কিংবা আগস্টে প্রকাশিত হলেও নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে কয়েকমাস সময় লেগে যাবে। ফলে স্কুল-কলেজের পদ ব্লক হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি সফটওয়্যার তৈরি হতে আরও দুই মাসের মতো সময় লাগবে। কারিগরির বদলি সফটওয়্যারের কোনো অগ্রগতি এখনো জানা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় সফটওয়্যার তৈরি করে এই দুই অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের বদলি চালু হতে আরও অন্তত চার থেকে পাঁচ মাস লেগে যেতে পারে। এই সময়সীমার মধ্যে নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হয়ে গেলে নিজ বাড়ির কাছাকাছি প্রতিষ্ঠানে ফেরার পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষকদের।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘স্কুল-কলেজের বদলি কার্যক্রম অনেকটা এগিয়ে গেলেও মাদ্রাসা এবং কারিগরির তেমন অগ্রগতি নেই। বিষয়টি ভাববার রয়েছে। তারা কেন দেরি করছে সে বিষয়ে আমাদেরও কোনো ধারণা নেই।’

মাদ্রাসা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা দ্রুত সফটওয়্যারর তৈরির কার্যক্রম শুরু করবো। সফটওয়্যার তৈরি হয়ে গেলে বদলি চালু করতে আর কোনো বাধা থাকবে না।’