২০ নাকি ১০— এইচএসসির ভুল প্রশ্নের জন্য কত নম্বর পাচ্ছেন পরীক্ষার্থীরা?
পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুলের জন্য শিক্ষার্থীদের ফুল ক্রেডিট দেওয়া হবে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন- তাহলে কি প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত ৬ ও ৭ নম্বর উদ্দীপককে ঘিরে তৈরি ৪ প্রশ্নের জন্য মোট ২০ পূর্ণ নম্বরই দেওয়া হবে? নাকি শুধু ভুল থাকা প্রশ্নের ১০ নম্বর? শিক্ষার্থীরা জানান, পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রের দুইটি সৃজনশীল প্রশ্নে অসঙ্গতি ছিল। এর মধ্যে ৬ নম্বর সৃজনশীলের ‘গ’ এবং ৭ নম্বর সৃজনশীলের ‘গ’ ও ‘ঘ’ উপ-প্রশ্নে সমস্যা ছিল। তারা বলেন, এই দুইটি সৃজনশীল প্রশ্নের তিনটি উপ-প্রশ্নের নম্বর দেওয়া হলে মোট নম্বর হবে ১০। আর যদি দুইটি সৃজনশীল প্রশ্নের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হয়, তাহলে নম্বর হবে ২০। এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয়েছে।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ ও পদার্থবিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সৃজনশীল প্রশ্নপত্রের ২ নম্বর সেটের (যমুনা) ৬ নম্বর উদ্দীপকের প্রশ্ন গ-তে গড় মুক্ত পথ নির্ণয় করতে বলা হয়েছে। কিন্তু আলোচ্য উদ্দীপকে গড় মুক্ত পথ বের করার জন্য পর্যাপ্ত তথ্য নেই। এখানে অনুর কার্যকর ব্যাস উল্লেখ করা নেই।
একই প্রশ্নপত্রের ৭ নম্বর উদ্দীপকে দুটি ভেক্টরের একটার কোন লব্ধির সাথে ২৫° দেওয়া আছে। কিন্তু উদ্দীপকের দুটো ভেক্টরের মধ্যবর্তী কোণ হিসাব করলে ৬.৪১° হয়; যা যুক্তিসঙ্গত নয়। দুটি ভেক্টরের মধ্যবর্তী কোণ অবশ্যই ২৫° এর চেয়ে বড় হতে হবে এমনভাবে ভেক্টর দুটোর তথ্য দেওয়া উচিত ছিল এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
কেন প্রশ্নে ভুল- এমন বিষয় টেনে সংসদে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব পেয়েছি মাত্র চার মাস হলো। প্রশ্ন প্রণয়ন ও মডারেশনের প্রক্রিয়া দুই বছর আগে থেকেই শুরু হয়। আমরা এসে নতুন করে কোনো প্রশ্ন তৈরি করতে পারিনি। আগের সরকারের সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মডারেটররাই এসব প্রশ্ন তৈরি করেছেন। তবুও আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা দিয়েছি যে, পদার্থবিজ্ঞানের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্ন ভুল হয়েছে। সেটির জন্য শিক্ষার্থীদের ফুল ক্রেডিট দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘পরীক্ষা যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি রেখেছিলাম। আজও আমরা সারাদিন সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের সঙ্গে থাকা প্রত্যেক স্টেকহোল্ডার জানিয়েছেন, পরীক্ষা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
কুমিল্লার ঘটনার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নির্দেশ দিয়েছিলাম, পরীক্ষা কিছুটা বিলম্বে শুরু করার জন্য। যে মেয়েটির কাপড় ভিজে গিয়েছিল, তার জন্য বাড়ি থেকে কাপড় আনার ব্যবস্থা করা হয়। এক ঘণ্টা পর তার পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষার সময়সীমাও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি আপনার মাধ্যমে জাতিকে জানাতে চাই, আমাদের পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্থানীয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ডিসি, ইউএনও, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন কোনো দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে কি না। তারা প্রয়োজন মনে করলে পরীক্ষা স্থগিতও করতে পারেন।’
আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আমরা বারবার স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে, সঠিকভাবেই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা আমরা সবাই দেখেছি। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করেই আমরা সব সময় বিষয়গুলো মনিটরিং করছি।’