০৯ জুলাই ২০২৬, ১৩:০৪

কেউ সরকারি খরচে খিচুড়ি রান্না শেখার জন্য বিদেশ যেতে পারবেন না

এনসিটিবি মিলনায়তনে বক্তব্য দিচ্ছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন  © সংগৃহীত

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বাসভবনে যাননি। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি সরকারি গাড়ি পারসেজ হতে শুরু করে বিদেশ ভ্রমণ হতে শুরু করে বিষয় কৃষক হয়ে, কেউ আর সরকারি খরচে খিচুড়ি রান্না শিখার জন্য বিদেশ যেতে পারবেন না।’

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) মিলনায়তনে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ৬০ লাখ টাকা দিয়ে উনার ক্যান্টনমেন্টের বাড়িতে এসি সেন্ট্রালাইজ করেছিলেন। সে সময় ২০০১ সালে উনি যদি গণভবনে থাকতেন, তাহলে মাসে ২ কোটি টাকা দিত। আর টোটাল সিস্টেমটাকে ৬০ লাখ টাকায় রিনোভেশন করা হয়েছিল। সে জন্য মামলা করেছে উনার বিরুদ্ধে যে, উনি কেন নিজ বাড়িতে ৬০ লাখ টাকা খরচ করল? তার মানে কত শত কোটি টাকা সেভ করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।’

মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও প্রতিনিধিদের তিনি বলেন, ‘আপনাদের কাছে যদি কোনো ইন্সপেকশন টিম কোনো রকম টাকা চায়, সাথে সাথে আমাদের জানাবেন। আমরা ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন: বই মুদ্রণকারীদের জন্য কড়া সতর্কবার্তা শিক্ষামন্ত্রীর

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বই মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও প্রতিনিধিদের সতর্ক করে দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমার কাছে প্রাধান্য হলো বই দেওয়া। আপনাদের প্রাধান্য হলো বই দেওয়া। যদি অসুবিধা করেন, এবার হয়তো ঠ্যাক দিবেন। আগামীতে আর পারবেন না। মানুষ যখন প্যান্ট পরে, তখন জিপার রেখেই পরে, যেন বাথরুমে যাওয়া যায়। আমরা ওভাবে প্যান্ট পরব, ডিজাইন করব, যেন আমাদের জিপার থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন আরেকজনকে চোখে আঙুল দিয়ে কথা বলবে ইটস নট দ্যাট। একজন আরেকজনের পরিপূরক হবে না। ইটস নট যে, আমরা সরকার বলে থ্রেড করব। থ্রেড করে জনগণকে কখনো দামানো যায় না, এটা সম্ভব না। এই অ্যাসোসিয়েশন আমরা ভেঙে দিতে পারতাম। আপনাদের অ্যাসোসিয়েশন আপনারা কাকে দিয়ে করবেন এটা আপনাদের ব্যাপার। আমরা সেখানে অবৈধ হস্তক্ষেপ কখনো করতে যাব না।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বই এমনভাবে ছাপতে হবে, ছবিগুলো সুন্দর হতে হবে। শিশুরা দেখে যাতে আনন্দ পায়। এটি আমরা কেন পারব না? এটা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। অনেকে আমার কিছু কথায় আহত হয়েছেন। কিন্তু বই নিয়ে এটি আমাদের করতে হবে।’