০৬ জুলাই ২০২৬, ১৮:৪৮

নায়েমে অযোগ্যদের পদায়নের অভিযোগ, যোগ্যতা নির্ধারণের প্রস্তাব শিক্ষামন্ত্রীর

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন শিক্ষামন্ত্রী  © সংগৃহীত

শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) অযোগ্য ব্যক্তিদের পদায়নের অভিযোগ তুলে সেখানে শিক্ষক ও প্রশিক্ষক নিয়োগে নির্দিষ্ট যোগ্যতা নির্ধারণ এবং পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচন করার প্রস্তাব এসেছে। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব দিতে বলেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সোমবার (৬ জুলাই) বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের ২১০ তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নায়েমের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. ওয়াসীম মো: মেজবাহুল হক নায়েমে রাজনৈতিক পদায়নের বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীকে অবহিত করেন।

অনুষ্ঠানে নায়েম ডিজি বলেন, নায়েমে যে কেউকে পদায়ন করা উচিত নয়। প্রতিষ্ঠানটিতে দায়িত্ব পালনের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য নায়েমের ওয়েবসাইটে প্রশিক্ষণ-সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় কনটেন্ট প্রকাশ করে সেই কনটেন্টের ওপর পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকেই আবেদন গ্রহণ করে পরে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রশিক্ষক নির্বাচন করা যেতে পারে বলে মত দেন।

তিনি বলেন, ‘এখানে আসার জন্য ন্যূনতম একটি যোগ্যতা থাকতে হবে। যে কেউ এখানে আসতে পারে না। এটি শুধু নায়েমের জন্য নয়, যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের ক্ষেত্রেই যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচন হওয়া উচিত।’

নায়েম ডিজির এমন বক্তব্যের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন বলেন, শিক্ষক প্রশিক্ষকদের জন্য একটি পৃথক প্যানেল গঠন করা যেতে পারে। এই প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হতে হলে লিখিত পরীক্ষা, এমসিকিউ বা অন্যান্য মূল্যায়ন এবং সাক্ষাৎকারে উত্তীর্ণ হতে হবে। এরপর যোগ্যদের মধ্য থেকেই নায়েমে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ভালো আউটপুট পেতে হলে আগে ভালো শিক্ষক তৈরি করতে হবে। কোয়ালিটি টিচার ট্রেনিং নিশ্চিত না হলে মানসম্মত শিক্ষা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো বিবেচনায় পদায়ন করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, নায়েমে যারা প্রশিক্ষণ নিতে আসেন, তারা মূলত আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি, শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা, নিজের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা এবং কার্যকর পাঠদান কৌশল শেখার জন্য আসেন। তাই প্রতিষ্ঠানের কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাও সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সাজাতে হবে।’