একই পাঠ্যবই পড়বে স্কুল ও মাদ্রাসার ব্যবসায় শিক্ষার ছাত্র-ছাত্রীরা
নতুন শিক্ষাবর্ষে একই পাঠ্যবই পড়বে নবম শ্রেণির ব্যবসায় শিক্ষায় ভর্তি হওয়া স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনসিটিবির সদস্য (কারিকুলাম) প্রফেসর মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসার ব্যবসায় শিক্ষার জন্য পৃথক কোনো পাঠ্যবই ছাপানো হচ্ছে না। ২০২৬-এর মতোই ২০২৭ শিক্ষাবর্ষেও যেসব শিক্ষার্থী নবম শ্রেণিতে ভর্তি হবে, তারা একই পাঠ্যবই পড়বে। তাদের জন্য পৃথক পাঠ্যবই প্রণয়নের জন্য কোনো নির্দেশনা আসেনি।’
জানা গেছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে মাদ্রাসার নবম শ্রেণিতে ব্যবসায় শিক্ষা চালু করে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট মাদ্রাসার দাখিল ও আলিম পর্যায়ে ব্যবসায় শিক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আর চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মন্ত্রণালয়ের এক সভায় ব্যবসায় শিক্ষা পাঠদানের জন্য ৪৫টি মাদ্রাসাকে অনুমোদন দেওয়া হয়।
মাদ্রাসা বোর্ড ব্যবসায়য় শিক্ষার কারিকুলামের একটি খসড়া করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) জমা দিয়েছে। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটিতে (এনসিসিসি) খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। অনুমোদন প্রক্রিয়া চলমান থাকায় শিগগিরই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা স্বতন্ত্র পাঠ্যবইটি পাচ্ছে না। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষেও নবম শ্রেণিতে উঠা ব্যবসায় শিক্ষার স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য একই পাঠ্যবই পরিমার্জন করা হচ্ছে।
মাদ্রাসার জন্য ব্যবসায় শিক্ষার পাঠ্যবইয়ে ইসলামী অর্থনীতি, ব্যাংকিংসহ নতুন কিছু সংযুক্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
২০২৫ শিক্ষাবর্ষে মাদ্রাসায় ব্যবসায় শিক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দেয় মন্ত্রণালয়। নির্দেশনাগুলো হলো— মাদ্রাসার দাখিল ও আলিম স্তরে ব্যবসায়য় শিক্ষা বিভাগের জন্য পাঠ্যক্রম ও পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস প্রণয়ন; সিলেবাস অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক পাঠ্যপুস্তক নির্ধারণ ও প্রস্তুত; আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত মাদ্রাসায় বিভাগ চালুর উদ্যোগ; সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান ও প্রয়োজন অনুযায়ী এনটিআরসিএর মাধ্যমে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা।
এ ছাড়াও ৮ম শ্রেণিতে কমপক্ষে ১০০ শিক্ষার্থী, অতিরিক্ত ২টি শ্রেণিকক্ষ এবং এনটিআরসিএ কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে বলে মাদ্রাসা বোর্ড থেকে একটি চিঠিতে জানানো হয়।
এই ঘোষণার পরই রাজধানীর তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসাসহ দেশের কয়েকটি মাদ্রাসায় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকেই নবম শ্রেণিতে ব্যবসায় শিক্ষা চালু করে। এসব প্রতিষ্ঠানসহ ৪৫টি মাদ্রাসায় সম্প্রতি ব্যবসায় শিক্ষা পাঠদানের জন্যও জিও জারি করে মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ। এসব প্রতিষ্ঠান প্রধানরা মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাতন্ত্র কিছু বৈশিষ্ট্যসহ পৃথক পাঠ্যবই ছাপানোর কথা জানায় মাদ্রাসা বোর্ডকে। ইসলামিক দৃষ্টিকোণের আলোকে ব্যবসায়য় শিক্ষার পাঠ্যবই পুস্তক প্রণয়নের দাবি তাদের।
মাদ্রাসা-স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা একই পাঠ্যবই যেভাবে পড়ছে, একইভাবে ব্যবসায়র শিক্ষার শিক্ষার্থীরাও স্কুলের পাঠ্যবই পড়লে সমস্যা দেখছি না।-প্রফেসর মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর, এনসিটিবি সদস্য (কারিকুলাম)
ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার প্রভাষক (ইসলামী শিক্ষা) নাজমুল হক আকন্দ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ে পৃথক পাঠ্যবই প্রণয়ন সময়ের দাবি। কারণ, মাদ্রাসা শিক্ষার লক্ষ্য ও বৈশিষ্ট্য সাধারণ শিক্ষার তুলনায় ভিন্ন। মাদ্রাসায় ব্যবসায় শিক্ষার পাঠ্যপুস্তক এমনভাবে উপস্থাপন করা উচিত, যাতে আধুনিক ব্যবসায়িক জ্ঞানের পাশাপাশি ইসলামী অর্থনীতি, শরিয়াহসম্মত ব্যবসা, সুদমুক্ত অর্থব্যবস্থা, যাকাত, ওয়াকফ, আমানতদারি এবং ব্যবসায়িক নৈতিকতার বিষয়গুলো যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত থাকে।
তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা অধ্যক্ষ ড. খলীলুর রহমান মাদানি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকেই আমরা শিক্ষার্থী ভর্তি করি। নবম শ্রেণির ব্যবসায় শাখায় ১০৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষক বছরের শুরুতেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসার ব্যবসায় শিক্ষার জন্য আলাদা পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক পাঠ্যবই প্রয়োজন। আমরা আশা করছি, শিগগিরই সরকার উদ্যোগ নেবে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের উপ-মাদ্রাসা পরিদর্শক-১ মো. আকরাম হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘৪৫টি মাদ্রাসায় (জিও) পাঠদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানা যায়নি বলে জানান তিনি। তবে কতগুলো প্রতিষ্ঠানে নবম শ্রেণিতে ব্যবসায়য় শিক্ষা বিভাগ চালু করা হয়েছে তা জানাতে পারেননি তিনি।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, মাদ্রাসা-স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা একই পাঠ্যবই যেভাবে পড়ছে, একইভাবে ব্যবসায়র শিক্ষার শিক্ষার্থীরাও স্কুলের পাঠ্যবই পড়লে সমস্যা দেখছি না। কারিকুলাম নির্ধারণ না করেই মাদ্রাসার নবম শ্রেণিতে ব্যবসায় শিক্ষা চালু করা হয়েছে, আগে কারিকুলাম নির্ধারণ করার দরকার ছিল। তবে এ বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।