২৫ জুন ২০২৬, ২১:১০

ওভার মার্কিং নাকি আন্ডার মার্কিং— বদলাচ্ছে ঢিলেঢালা খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতি: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন  © টিডিসি ছবি

পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর প্রায় প্রতি বছরই শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের একটি অংশের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে— খাতা কি সঠিকভাবে মূল্যায়ন হয়েছে? কেউ প্রত্যাশার চেয়ে কম নম্বর পাওয়ার অভিযোগ করেন, আবার কেউ একই মানের উত্তর লিখেও ভিন্ন নম্বর পাওয়ার উদাহরণ সামনে আনেন। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এমন অভিযোগের মধ্যেই দেশের পাবলিক পরীক্ষার খাতা দেখার ঢিলেঢালা পদ্ধতি বদল করার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে এসএসসি ও এইচএসসিসহ পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে প্রতিবছর লাখ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। বিপুল সংখ্যক উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব পান হাজার হাজার শিক্ষক। অনেক ক্ষেত্রে একজন শিক্ষককে স্বল্প সময়ের মধ্যে শত শত খাতা মূল্যায়ন করতে হয়। অতিরিক্ত কাজের চাপ, সময়ের সীমাবদ্ধতা এবং তদারকির ঘাটতির কারণে খাতা মূল্যায়নে ভুলের সম্ভাবনা তৈরি হয়। একই ধরনের উত্তরের ক্ষেত্রে একজন পরীক্ষক বেশি নম্বর দিলেও অন্যজন তুলনামূলক কম নম্বর দিতে পারেন। ফলে ফলাফলে অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে আসে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) খুলনা বিভাগীয় অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, বোর্ডগুলো শিক্ষকদের ৫০০ করে খাতা দিয়ে দেয়, কিন্তু শিক্ষকেরাকীভাবে মূল্যায়ন করছেন- ওভার মার্কিং (বেশি নম্বর) নাকি আন্ডার মার্কিং (কম নম্বর) হচ্ছে- তা বোর্ড যথাযথভাবে তদারকি করে না। আমাদের খাতা দেখার এই ঢিলেঢালা পদ্ধতি আমরা বদল করতে চাই।’ 

আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রচলিত নকলের প্রবণতা অনেকটাই কমে এলেও ডিজিটাল মাধ্যমে নকল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়িয়ে একটি চক্র শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।

তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ ধরনের গুজবের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ফেসবুকে কেউ প্রশ্ন ফাঁসের ভুয়া তথ্য বা গুজব ছড়ালেই দ্রুত আইনের আওতায় নিতে আসতে হবে। অপরাধ প্রমাণ করতে পারলে সাইবার ক্রাইম আইনের আওতায় সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। আমরা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রল বানাতে দিতে পারি না।’

মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের এক জায়গায় জেঁকে বসার সংস্কৃতির সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা ও দেশের বড় বড় শহরে যেসব শিক্ষা কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে অলস বসে আছেন, অথচ মাঠ পর্যায়ে তদারকি করছেন না, তাদের তালিকা তৈরি করুন। যারা নিষ্ক্রিয়, তাদের অবিলম্বে উপজেলায় বদলি করা হবে। কর্মকর্তাদের অলসতা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’

পরীক্ষাকেন্দ্রে কড়া তল্লাশির নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল বা কোনো প্রকার অবৈধ কাগজপত্র নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ। কোনো পরীক্ষার্থীর কাছে যদি পরীক্ষার হলে বই বা কাগজ পাওয়া যায়, তবে তার দায় ওই কক্ষের পরিদর্শককে নিতে হবে। শিক্ষকরা নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে বলতে পারেন না যে তারা দেখেননি।’

এ সময় তিনি আরও জানান, আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ কর্মসূচিতে নিম্নমানের বা পচা খাবার সরবরাহের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম মু. আব্দুস ছালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।