ইন-হাউস কোচিং করতে হবে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের, সম্মানী থাকবে শিক্ষকদের: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষাজীবনের সময়ক্ষেপণ কমাতে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারি মাসেই নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার উপযুক্ত প্রস্তুতির জন্য এখন থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ইন-হাউজ কোচিং’ বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব কথা বলেন। আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের নিয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী ছয় বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি হয়। ১৬ বছর বয়সে তার এসএসসি সম্পন্ন করার কথা। অর্থাৎ ১২ বছরের শিক্ষা, যাকে আমরা হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশন বলি। এরপর ইন্টারমিডিয়েট লেভেল শেষ করে ১৮ বছর বয়সে তার শিক্ষাজীবনের এই ধাপ সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু বিগত দিনে আমরা দেখেছি, এসএসসি পরীক্ষা নিতে বোর্ডের এক বছর সময় লেগে যায়। আবার এইচএসসি পরীক্ষা নিতে ও ফল প্রকাশ করতে আরও এক বছর সময় লেগে যায়। ফলে ১২ গ্রেডের হাইস্কুল শিক্ষা সম্পন্ন করতে একজন শিক্ষার্থীর ২০ বছর সময় লেগে যায়। অর্থাৎ তাদের জীবন থেকে দুই বছর হারিয়ে যায়।’
আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে: শিক্ষামন্ত্রী
মন্ত্রী বলেন, আপনি যদি ভিন্নভাবে চিন্তা করেন, তাহলে এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ৪০ লাখ শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হয়। আমাদের অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে, এটি দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে পিছিয়ে দেয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এই সময়কে সমন্বয় করা। আমরা সেই চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, সেই কারণে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা আমরা জানুয়ারি মাসে নেব। যদিও সেটিকে আমরা আরও কিছুটা পিছিয়ে নিতে পারতাম। কিন্তু রোজার কারণে আমরা অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক সব স্টেকহোল্ডারের মতামত নিয়েছি। তারা বলেছেন, রোজা ও ঈদের আগেই পরীক্ষা শেষ হওয়া ভালো। সেজন্য আমরা সবার মতামতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এহছানুল হক মিলন বলেন, আমরা কোর্স কাভার করেছি। প্রি-টেস্ট এবং ইন-হাউস কোচিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। প্রত্যেক স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন-হাউস কোচিং করতে হবে। এ বিষয়ে আমি প্রধান শিক্ষকদের অনুরোধ করব, স্থানীয় পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষকদের কিছু সম্মানী দিয়ে হলেও এ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।