সুষ্ঠু এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনে ৪ নির্দেশনা ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যানের
আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি চারটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। তিনি প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নকলমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা, পরীক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং প্রশাসনের সমন্বয়ে কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
বুধবার (২৪ জুন) সকালে রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘জাতির দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে একাত্তর এবং চব্বিশের গণজাগরণ ধারণ করা একমাত্র রাজনৈতিক দল একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ভূমিধস বিজয় নিয়ে সরকার গঠন করেছে। সেই গণতান্ত্রিক সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আগামী এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আজকের এই মতবিনিময় সভা অত্যন্ত তথ্যপূর্ণ। কারণ আমরা এমন একটি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, যা লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তিনি বলেন, ‘এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুধু একটি পাবলিক পরীক্ষা নয়। এটি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, অভিভাবকদের প্রত্যাশা এবং জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সুষ্ঠু, সুন্দর, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষার আয়োজন করা আমাদের সবার নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব। পরীক্ষার গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে এর স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর।’
পরীক্ষা পরিচালনায় কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি চারটি নির্দেশনার কথা তুলে ধরেন।
প্রথমত, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি কেন্দ্রে নকলমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। তৃতীয়ত, এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা ভয়, চাপ বা উদ্বেগ ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে। সর্বোপরি চতুর্থত, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রকে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রাখতে হবে।
ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান আরও বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেওয়ার নানা অপচেষ্টা প্রায়ই দেখা যায়, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘কোনো গুজব বা অপপ্রচারে মনোযোগ না দিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’