১৮ জুন ২০২৬, ১৪:৩৩

মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ছাড় নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন  © সংগৃহীত

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা দেয়ার সমস্যাটি দ্রুততম সময়ে সমাধানের জন্য বর্তমান সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করে একনেক থেকে অনুমোদিত হয়েছে। এর মাধ্যমে বেতনভাতা দেয়ার সমস্যাটি সহজেই সমাধান হবে। শিগগিরই মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ছাড়ের আশা করা হচ্ছে। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে মাদরাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম' প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। সেসময় প্রকল্পটি ছিল প্রায় ১০ কোটি ১২ লাখ টাকার। বিগত সরকারের সময় প্রকল্পটি ইএফটি কার্যক্রম বাদ দিয়ে অনুমোদন করার ফলে মাদরাসার শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের কার্যক্রম বাঁধাগ্রস্ত হয়।

ইতোমধ্যে, মাদরাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট ২য় সংশোধিত (প্রস্তাবিত ৩য় সংশোধন) প্রকল্পটি গত ৯ জুনে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করে একনেক থেকে অনুমোদিত হয়েছে। এর মাধ্যমে বেতন ভাতা দেয়ার সমস্যাটি সহজেই সমাধান হবে। একনেকে সংশোধনী অনুমোদনের ফলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। বর্তমানে এ প্রকল্পটি প্রায় ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকার।

তিনি আরো বলেন, আগে এ প্রকল্পের মাধ্যমে আটটি বিভাগে আটটি মাদরাসা পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় ইএফটি‘র মাধ্যমে বেতন-ভাতা পরিশোধের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছিলো। ফলে আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যতিত অন্যান্য সব মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানুয়াল বা অ্যানালগ পদ্ধতিতে বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে। সেজন্য বেতন ভাতা পরিশোধে কয়েকদিন বিলম্ব হচ্ছে। তবে খুব দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।

সর্বশেষ, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে ১ লাখ ৯১ হাজার ২৩১ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে ৫১০ কোটি ৭২ লাখ ১২ হাজার ৭১ টাকা বেতন-ভাতা দেয়া হয়। এর মধ্যে শিক্ষক ১ লাখ ৪৯ হাজার ১৮৩ জন এবং কর্মচারী- ৪২ হাজার ৪৮ জন।

এমপিওভুক্ত মাদরাসার শিক্ষক সংখ্যা ১ লাখ ৪৯ হাজার ১৭৬ জন এবং কর্মচারী ৪২ হাজার ৯২ জন। সর্বমোট শিক্ষক-কর্মচারীঃ ১ লাখ ৯১ হাজার ২৬৮ জন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনউদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, প্রাথমিক শিক্ষা অধদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।