২৭ মে ২০২৬, ০৯:২২

ঈদ আনন্দ নেই ৭ম গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হাজারো শিক্ষকের

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর  © ফাইল ছবি

৭ম গণবিজ্ঞপ্তিতে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়া হাজারো শিক্ষক এখনও এনপিওভুক্ত হতে পারেননি। ফলে এই শিক্ষকদের মনে এবার ঈদের আনন্দ নেই। পরিবার নিয়ে বেতনহীন অবস্থায় ঈদুল আজফা উদযাপন করতে হচ্ছে তাদের।

জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন কারিগরি ও বিএম শিক্ষকরা৷ এরপর যথাযথ নিয়ন অনুসরণ করে এমপিওভুক্তির আবেদন করেন তারা। এমপিওভুক্তির আবেদনের ৩ মাস হতে চললেও এখনো এমপিওভুক্ত হতে পারেননি এসব শিক্ষক। ফলে বেতন ছাড়াই নিদারুণ কষ্টে থাকতে হচ্ছে তাদের।

নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের অভিযোগ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এমপিওভুক্তির ধীরগতি এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে যোগদানের তিন মাস হলেও এমপিওভুক্তি হতে পারেননি শিক্ষকরা।  এমপিওভুক্ত না হওয়ায় তারা বেতন পাচ্ছেন না। বেতন না পেলেও যোগদানের পর থেকে নিয়মিত পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তারা।

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা বলছেন, এনটিআরসিএ’র নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়ার পরও তারা বেতন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। অনেক শিক্ষক কর্মস্থলের কারণে পরিবার থেকে দূরে অবস্থান করছেন। কেউ ধার-দেনা করে, আবার কেউ ঋণ নিয়ে জীবনযাপন করছেন। ঈদকে সামনে রেখে পরিবার-পরিজনের জন্য ন্যূনতম কেনাকাটাও করতে পারছেন না তারা।

ইকবাল (ছদ্মনাম) নামে এক শিক্ষক বলেন, 'রাষ্ট্র দক্ষ জনশক্তি তৈরির কথা বলছে, কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছে। অথচ সেই খাতের নতুন শিক্ষকরা কয়েক মাস ধরে বিনা বেতনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক।'

সুমাইয়া নামে আরেক শিক্ষক বলেন,
'আমরা সবাই এনটিআরসিএ সনদধারী ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত। নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছি, কিন্তু এখনো এমপিওভুক্ত হতে না পারায় পরিবার নিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছি। ঈদের আগেই অন্তত বকেয়াসহ বেতন চালুর দাবি জানাচ্ছি।'

জানা গেছে, দ্রুত এমপিওভুক্তি এবং যোগদানের দিন থেকে বেতনের দাবিতে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর আবেদন ও স্মারকলিপি দিয়েছেন। তবে তাতেও কোনো কাজ হয়নি। 

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মনে করছেন, কারিগরি শিক্ষাকে দেশের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হলেও নতুন শিক্ষকদের দীর্ঘদিন বেতনবিহীন রাখার বিষয়টি উদ্বেগজনক। এতে একদিকে যেমন শিক্ষকদের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার পরিবেশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে জানতে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভগের সচিব দাউদ মিয়াকে কল দেওয়া হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।