১৭ মে ২০২৬, ১৯:১৬

এনটিআরসিএ সনদ অর্জনের আগেই চাকরি, মনিপুর স্কুলে ৬৬২ শিক্ষকের নিয়োগ অবৈধ

মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের লোগো  © টিডিসি সম্পাদিত

মো. শরিফুল ইসলাম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সনদ অর্জন করেছেন ২০১১ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এ নিবন্ধনের ফল প্রকাশিত হয়েছিল ২০১২ সালের ৪ মার্চ। তবে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ২০১১ সালের ৩০ জানুয়ারি তিনি সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। অর্থাৎ নিবন্ধন পরীক্ষার ফল প্রকাশের পূর্বেই তিনি নিয়োগ পান। তার নিয়োগটি অবৈধ বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) 

২০১৮ সালের ৬ মার্চ মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন নুসরাত ইয়াসমিন রিয়া। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ২০১৫ সালের পর নিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সনদ বাধ্যতামূলক করা হলেও এ সনদ নেই রিয়ার। শুধু তাই নয়; তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানটিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) প্রতিনিধি ছিল না। নিয়োগ কমিটির রেজ্যুলেশন, পরীক্ষার নম্বরপত্র এবং যোগদান সংক্রান্ত রেজ্যুলেশনও নেই। ফলে তার নিয়োগটি বিধি সম্মত হয়নি।

‘আমি এই মুহূর্তে দেশে নেই। দেশে ফিরে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের তদন্ত প্রতিবেদন দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’—ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মন্ত্রী শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

শুধু শরিফুল ইসলাম কিংবা নুসরাত ইয়াসমিন রিয়াই নন; ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে চাকরি পাওয়া ৬৬২ শিক্ষকের নিয়োগ বিধি সম্মত হয়নি অর্থাৎ নিয়োগগুলো অবৈধ বলে জানিয়েছে ডিআইএ। রবিবার (১৭ মে) এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআইএ পরিচালক অধ্যাপক এম. এম সহিদুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের আর্থিক অনিয়মের প্রতিবেদনটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৬টি ক্যাম্পাস রয়েছে। এই ছয় ক্যাম্পাসের প্রভাতী এবং দিবা মিলিয়ে মোট ১৪টি শিফট চালু রয়েছে। এর মধ্যে ৪টি শিফটের অনুমোদন থাকলেও বাকি ১০টি শিফটের অনুমোদন নেই।

প্রতিষ্ঠানটি ২০১০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। ছিল না ডিজির প্রতিনিধিও। শুধু তাই নয়; নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো লিখিত পরীক্ষাও নেওয়া হয়নি। গভর্ণিং বডির ২১তম সভায় এসব শিক্ষকের নিয়োগ অনুমোদন করা হয়েছে। 

মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের মূল বালক (প্রভাতী) শাখায় ৬৭ শিক্ষকের নিয়োগ বিধি সম্মত হয়নি। এই ক্যাম্পাসের দিবা শাখায় ৬৫, মূল বালিকা (প্রভাতী) শাখায় ৭৫, দিবা শাখার ৬১, ব্রাঞ্চ-১ (প্রভাতী শাখা)-তে ৬৩, ব্রাঞ্চ-১ (দিবা শাখা) ৬১, ব্রাঞ্চ-২ (প্রভাতী শাখা) ৩২,  ব্রাঞ্চ-২ (দিবা শাখা) ৩১, ব্রাঞ্চ-৩ (প্রভাতী শাখা ৫৬, ব্রাঞ্চ-৩ (দিবা শাখা) ৫৩, কলেজ (প্রভাতী শাখা) ২৪, কলেজ (দিবা শাখা) ২৬, কলেজ শাখা ইংলিশ ভার্সন (প্রভাতী শাখা) ২৫ এবং কলেজ শাখা ইংলিশ ভার্সনের (দিবা শাখা) ২৪ জন শিক্ষকের নিয়োগ বিধি সম্মত হয়নি। 

ডিআইএ জানিয়েছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫ (২০ মার্চ ২০০৫ তারিখ থেকে বলবৎ) এর ধারা ১০ এর উপধারা (২) অনুযায়ী, “এর অধীন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত শিক্ষকদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, নিবন্ধিত ও প্রত্যয়নকৃত না হইলে কোন ব্যক্তি কোন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগের জন্য যোগ্য বিবেচিত হইবেন না।” 

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন আইন ২০০৫ অনুযায়ী ২০/০৩/২০০৫ তারিখের পর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন সনদ কাম্য শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত। এ প্রতিষ্ঠানে ২০০৫ সালের ২০ মার্চের পর বিপুল সংখ্যক শিক্ষক প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত বেতনে নিয়োগ করা হয়েছে। পরিদর্শনকালে তাদের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ সরবরাহ করতে না পারায় তাদের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ নেই। 

তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের মূল বালক (প্রভাতী) শাখায় ৬৭ শিক্ষকের নিয়োগ বিধি সম্মত হয়নি। এই ক্যাম্পাসের দিবা শাখায় ৬৫, মূল বালিকা (প্রভাতী) শাখায় ৭৫, দিবা শাখার ৬১, ব্রাঞ্চ-১ (প্রভাতী শাখা)-তে ৬৩, ব্রাঞ্চ-১ (দিবা শাখা) ৬১, ব্রাঞ্চ-২ (প্রভাতী শাখা) ৩২,  ব্রাঞ্চ-২ (দিবা শাখা) ৩১, ব্রাঞ্চ-৩ (প্রভাতী শাখা ৫৬, ব্রাঞ্চ-৩ (দিবা শাখা) ৫৩, কলেজ (প্রভাতী শাখা) ২৪, কলেজ (দিবা শাখা) ২৬, কলেজ শাখা ইংলিশ ভার্সন (প্রভাতী শাখা) ২৫ এবং কলেজ শাখা ইংলিশ ভার্সনের (দিবা শাখা) ২৪ জন শিক্ষকের নিয়োগ বিধি সম্মত হয়নি। 

মনিপুর স্কুলের অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে দেশে নেই। দেশে ফিরে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের তদন্ত প্রতিবেদন দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’