আলোচিত কর্মকর্তা অধ্যাপক ফেরদৌস ফের এনসিটিবির সচিব, ক্ষোভ শিক্ষা ক্যাডারে
অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ ফিরোজ আল ফেরদৌসকে ফের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সচিব পদে পদায়ন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১২ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে পদায়ন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ আমলে সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের একজন অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ ফিরোজ আল ফেরদৌস। এই কর্মকর্তাকে ফের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ ফিরোজ আল ফেরদৌস কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিকের ভাগ্নে পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়াতেন। এই পরিচয়ে তিনি আওয়ামী লীগ আমলে চারবার এনসিটিবিতেই বিভিন্ন পদে পদায়ন হয়েছেন। উপ সচিব (প্রশাসন) ও সচিবসহ বিভিন্ন পদে এনসিটিবিতে নিয়োজিত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর তিনি কিছুদিন এনসিপি সমর্থক এবং বর্তমানে বিএনপি সাজার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তাদের।
২১তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের এই কর্মকর্তা ১০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সরকারের সময় দাপটের সঙ্গে চাকরি করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর এনসিটিবির সচিব নাজমা আক্তারকে বদলি করা হলে অধ্যাপক ফিরোজ আল ফেরদৌস এনসিপি নেতা সালাউদ্দিন তানভীরেকে ম্যানেজ করে ওই বছরের শেষের দিকে এনসিটিবির সচিব পদে পদায়ন নেন। তখন তার পদায়ন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ নিয়ে একটি দলের নেতা, তৎকালীন চেয়ারম্যানসহ একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠে এবং মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠে। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তাকে এনসিটিবির সচিব পদ থেকে অপসারণ করে বদলি করে দেওয়া হয়।
শিক্ষা ক্যাডারের জাতীয়তাবাদী আদর্শের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী একজন ব্যক্তিকে ফের এনসিটিবিতে পদায়ন খুবই বিস্ময়কর। সেই বিতর্কিত ব্যাক্তিদের আবার গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন নতুন সরকারকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র হতে পারে।
নাম প্রকাশ করার না করার শর্তে ২৪তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের গত ১৬ বছর তিনি সুবিধা নিয়েছেন। এমনকি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সময় আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠনে কাজ করেছেন।’
২২তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের আরেক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমাদের আদর্শের লোকদেরকেই সেখানে নিয়োগ দিতে হবে, বিষয়টা এমন নয়, তবে একজন দুর্নীতিগ্রস্তকে ফের সচিব পদে পদায়ন করা হয়েছে, যা নিয়ে হতভাগ।’
বিষয়টি নিয়ে জানতে অভিযুক্ত অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ ফিরোজ আল ফেরদৌসকে একাধিকবার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। অপরদিকে এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো: মাহবুবুল হক পাটওয়ারী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ ফিরোজ আল ফেরদৌস সম্পর্কে জানি না।’