শূন্য পদ একটি, একাধিক আবেদন পড়লে যিনি অগ্রাধিকার পাবেন
বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য সংশোধিত বদলি নীতিমালা জারি করা হয়েছে। বুধবার (৬ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ নীতিমালা জারি করা হয়।
এর আগে নীতিমালাটি অনুমোদন দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জারির পাশাপাশি নীতিমালাটি ওয়েবসাইটে আপলোডের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে এবং দ্রুতই তা সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
আরও পড়ুন : শিক্ষকদের বদলি নীতিমালার পরিপত্র জারি, দেখুন এখানে
নতুন এ নীতিমালার মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ১৭টি সাধারণ শর্তাবলি দেয়া হয়েছে। বদলি নীতিমালা ধারা ৩-এর ৮- উল্লেখিত নির্দেশনা অনুযায়ী, অগ্রাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রথমে নারী প্রার্থীদের বিবেচনায় নেওয়া হবে। এরপর দূরত্বকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে ধরা হবে। পাশাপাশি স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল—বিশেষ করে জেলা বা সরকারি/আধা-সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হলে—সেটিও বিবেচনায় আসবে। সর্বশেষ মেধাকেও অগ্রাধিকার নির্ধারণের একটি মানদণ্ড হিসেবে রাখা হয়েছে।
নীতিমালায় আরও উল্লেখ, একটি পদের জন্য প্রতিযোগী সকল আবেদনকারীর কর্মস্থল একই উপজেলায় হলে তাদের বর্তমান কর্মস্থল যে উপজেলায় সে উপজেলার কেন্দ্র হতে কাঙ্খিত উপজেলার কেন্দ্র-এর দূরত্ব পরিমাপপূর্বক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।
একটি পদের জন্য প্রতিযোগী আবেদনকারী বিভিন্ন উপজেলার হলে তাদের কর্মস্থল যে উপজেলায় সে উপজেলার কেন্দ্র হতে কাঙ্খিত জেলার কেন্দ্র-এর দূরত্ব পরিমাপপূর্বক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। একটি পদের জন্য প্রতিযোগী আবেদনকারীর কর্মস্থল বিভিন্ন জেলায় হলে তাদের স্ব-স্ব জেলার কেন্দ্র হতে কাঙ্খিত জেলার কেন্দ্রের দূরত্ব পরিমাপ করতে হবে।
দূরত্ব পরিমাপের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-এর অনুসৃত মডেল অনুসরণ করা হবে। অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য সম্বলিত আবেদন বিবেচনাযোগ্য হবে না। ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য প্রদান প্রমাণিত হলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রমের পূর্বে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষক বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ ০২ (দুই) জন শিক্ষক অগ্রাধিকারভিত্তিতে (নারী ও জ্যেষ্ঠতা) বদলির সুযোগ পাবেন। তবে এক বিষয়ে একজনের অধিক শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন না। (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা বদলি বা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।