কোনদিন অনলাইন ক্লাস, কোনদিন অফলাইন—পরিকল্পনা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, তীব্র যানজট ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনায় দেশের কিছু নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বিত (হাইব্রিড) পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একইসঙ্গে কোনদিন অনলাইন, কোনদিন অফলাইন ক্লাস হতে পারে সে পরিকল্পনা জানিয়েছেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো বলিনি প্রতিদিন স্কুলে আসতে হবে। আমরা বলেছি একদিন অন্তর একদিন। আমরা এমনিতেই কারিকুলামে পিছিয়ে গিয়েছি, তাই আমরা বলেছিলাম সপ্তাহে ছয়দিন আমরা ক্লাস করাব। এর মধ্যে স্যাটারডে তে অনলাইন, তাহলে রাস্তায় তেমন কনজেশন (যানজট) হবে না। সানডে তে অফলাইন, বাসায় থাকুক। মানডে তে অনলাইন, টিউসডেতে বাসায়, ওয়েনসডে তে স্কুলে, থারসডে তে হেভি ট্রাফিক হয় ওইদিন বাসায়। তাহলে ছয়দিনই ক্লাস হলো, ছুটিও থাকল। এভাবে আমরা ফিউচার ওয়ার্ল্ডের দিকে যেতে থাকলাম।’
তিনি বলেন, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে নয়, বরং যেসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা আছে, সেসব স্কুলে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি চালু করা যেতে পারে। প্রস্তাবিত মডেলে সপ্তাহজুড়ে কিছুদিন অনলাইন এবং কিছুদিন অফলাইন ক্লাস থাকবে। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে ট্রাফিক চাপ ও জ্বালানি ব্যবহার হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠক্রমের মধ্যেই থাকবে।
তবে শিক্ষকদের স্কুলে গিয়েই অনলাইন ক্লাস নিতে হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনলাইন ক্লাস হলেও শিক্ষকদেরকে কিন্তু স্কুলে এসেই ক্লাস নিতে হবে। তাদের ছুটি নেই। কারণ শিক্ষকদের অনলাইনেই স্মার্ট ক্লাসরুমের শিক্ষা দিতে হবে। এক্ষেত্রে একজন শিক্ষক সেটিংসে দুর্বল হলে অন্যজনের থেকে হেল্প নিতে পারবে। সেজন্য স্কুলে শিক্ষকরা যাবেন।
শিক্ষকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনলাইন ক্লাস কার্যকর করতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও তদারকি বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে অনলাইনে মনোযোগী থাকে, সে বিষয়েও নজরদারি প্রয়োজন। সরকার ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। যেমন, এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা নির্ধারণ, অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন ইত্যাদি। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক পরিবহনের ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও নমনীয় শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প নেই। এজন্য সরকার ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে এবং পরীক্ষামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা হবে।