মাউশির ডিজি ও এনসিটিবি চেয়ারম্যান নিয়োগ প্রশাসনিক ব্যাপার: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান নিয়োগ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ব্যাপার।
সোমবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা কোনো অফিসারকে কেনো পাল্টাবো বা পাল্টাবো না সেগুলো সিদ্ধান্ত অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ (প্রশাসনিক) ব্যাপার। লিভ ইট টু আস। আমরা তো কাজ করছি। আস্তে আস্তে সবই হবে। এগুলো অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ওয়েতেই হবে।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘একজন লোকের রাজনীতি করা কি অপরাধ? এটি কি তাদের ডিসকোয়ালিফিকেশন? এটা ডিসকোয়ালিফিকেশন নয়। প্রত্যেকটি ভিসির বিষয়ে চেক করেছি, সাইটেশন, কোটেশন, গুগল সার্চ, পিএইচডি, পোস্ট ডক, এমফিল, সব দেখে ক্যাটাগরি করে যারা ভালো পারফরম্যান্স করেছে, তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরও বলেন, ‘আপনারা চাইলে এসব দেখাতে পারব। আমার কাছে এসব রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম হায়েস্ট পারফরমার। আমরা শিক্ষাগত যোগ্যতাকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়েছি। রাজনীতি করাটা শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ইচ্ছা। কে রাজনীতি করবে কি করবে না, এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কেউ কাউকে রাজনীতিতে ম্যানডেটরি করতে পারবে না।’
মন্ত্রী বলেন, আজ আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিচ্ছি। গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান বা প্রেসিডেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের বেসলাইন হবে স্নাতক (গ্র্যাজুয়েট) ডিগ্রি। তবে শুধু এটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকছি না; যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে আরও বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। আমরা চাই যোগ্য ও দক্ষ মানুষদেরই এই কাঠামোর উচ্চতর স্তরে নিয়ে আসতে।
তিনি আরও বলেন, এর আগে বিগত সরকারের সময় যে বিধান ছিল, সেখানে বলা হতো—সিনিয়র শিক্ষক হতে হবে বা হেডমাস্টার হতে হবে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সুযোগ সীমিত ছিল। আপনারা সাংবাদিকরা জানেন, তখন অনেক সময় নেপোটিজম ও ফেভারিটিজমের অভিযোগও উঠত এবং বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে আলোচিত হতো না। আমরা মনে করি, সেই ধারা থেকে বের হয়ে এসে সবার জন্য সুযোগের ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে একটি ন্যায্য ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।