কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সরকারি অনুদান আবেদন শুরু আজ, যা জানা জরুরি
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ মঞ্জুরির আর্থিক অনুদানের আবেদন শুরু হয়েছে। আজ রবিবার (১৫ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া এ আবেদন প্রক্রিয়া চলবে আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ মাহমুদুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিও মাদ্রাসা এবং স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সংশ্লিষ্টরা নিম্নোক্ত ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেরামত ও সংস্কার, আসবাবপত্র তৈরি, খেলাধুলার সরঞ্জাম ক্রয়, পাঠাগার উন্নয়ন এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী বান্ধব প্রতিষ্ঠান গড়ার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানরা আবেদন করা যাবে।
এ ক্ষেত্রে অনগ্রসর এলাকার অস্বচ্ছল অথচ লেখাপড়ার মান ভালো এমন প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শিক্ষক-কর্মচারী: জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসা এবং দৈব দুর্ঘটনার জন্য আবেদন করা যাবে। কোন শিক্ষার্থী জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসা, দুর্ঘটনা এবং শিক্ষা ব্যয় নির্বাহ না করতে পারে সে আবেদন করতে পারবে। প্রতিবন্ধী, দরিদ্র, মেধাবী ও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন।
আবেদন করতে হবে অনলাইনে www.tmed.gov.bd অথবা www.mygov.bd পোর্টালে। প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ‘মাইগভ’ প্ল্যাটফর্মে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের সময় মোবাইল নম্বরটি অবশ্যই ব্যানবেইস (BANBEIS) এর সর্বশেষ বার্ষিক জরিপ-২০২৫ অনুযায়ী হতে হবে। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষককে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে হালনাগাদকৃত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে প্রোফাইল ভেরিফাই করতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বরাদ্দকৃত অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। তাই আবেদনের সময় ব্যাংক তথ্যের প্রমাণ হিসেবে এমআইসিআর চেকবইয়ের একটি পাতার পিডিএফ কপি আপলোড করতে হবে। শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অর্থ ‘নগদ’ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেওয়া হবে। আবেদনের আগেই মোবাইল নম্বরটি নগদ সিস্টেমে নিবন্ধিত থাকতে হবে।
আরও পড়ুন: শিক্ষকদের বদলি সফটওয়্যার চূড়ান্ত হতে পারে কাল
শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পিতা/মাতা বা অভিভাবকের নিবন্ধিত নম্বর ব্যবহার করা যাবে। আবেদনকারী শিক্ষক-কর্মচারীকে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং শিক্ষার্থীদের অনলাইন জন্ম সনদ ও পিতা/মাতা/অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র অবশ্যই সংযুক্ত করতে হবে। প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে জেলা/উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের সনদ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের সনদ থাকতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যারা অনুদান পেয়েছেন, তারা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আবেদনের সুযোগ পাবেন না এবং ২০ এপ্রিলের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। প্রাপ্ত আবেদনগুলো জেলা পর্যায়ে বাছাই শেষে ১৫ মে’র মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, আবেদনের কোনো হার্ডকপি গ্রহণ করা হবে না এবং অনলাইন জন্ম নিবন্ধন না থাকলে কোনো শিক্ষার্থী অনুদান পাবেন না।