যে কারণে ১৮ বছর হলো এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের যোগ্যতা
দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্তারোপ করা হয়েছে। সম্প্রতি জনবল কাঠামো সংক্রান্ত পরিপত্রে এ অভিজ্ঞতার কথা জানানো হয়। এর আগে এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আগে ১২ থেকে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হতো। ফলে এখন তা বাড়িয়ে ১৮ বছর করা হয়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে। এরই মধ্যে বাধ্যবাধকতা শিথিল করে কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষকদেরও নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা।
এই নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বিগত ১৫-১৭ বছরে রাজনৈতিক কারণে বঞ্চিত শিক্ষকদের সুযোগ দিতেই এই যৌক্তিক পুনর্নির্ধারণ।
আজ শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর মিন্টুরোডের সরকারি বাসভবনে ‘এডুকেশন রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইরাব) এর সদস্যদের সঙ্গে ইফতার পরবর্তী এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৯ সালের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করেছি। কোথাও সরাসরি শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা বলা হয়নি, তবে বাস্তবে যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদেরই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ জনসেবা করতে আসা মানুষদের অযথা অপমান করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, কেউ কেউ বলেছেন- কঠোর মানদণ্ড থাকা উচিত। আবার বাস্তবতার কথাও এসেছে—অনেক সমাজসেবক আছেন, যাদের আনুষ্ঠানিক ডিগ্রি নেই, কিন্তু সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এসব বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আমি সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করব এবং পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব।
তিনি আরও বলেন, এদিকে কিছু সংবাদমাধ্যমে এমনভাবে খবর প্রকাশ করা হয়েছে যেন সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই হয়ে গেছে। এতে মনে হয়েছে যেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে বিব্রত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আমি কোনো দলীয় বিভাজন আনতে চাই না। বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত—কাউকে বাদ দেওয়ার নীতি আমার নয়। সবাইকে সমানভাবে বিবেচনা করতে হবে। যারা গত ১৫–১৭ বছর নানা কারণে সুযোগ পাননি, তাদেরও এবার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি আমি বিবেচনা করছি।