২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৩৪

প্রাথমিকের নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রশ্নে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী

কথা বলছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন  © সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, এখনই এটি নিয়ে রিভিউ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ আটকে থাকা অবস্থায় নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়তে চায় না সরকার।

আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ কথা জানান। প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগে নানা অনিয়মের অভিযোগ এসেছিল, সেটা নিয়ে আপনারা কোনো ব্যবস্থা নেবেন কিনা, এমন প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। নিয়োগ চূড়ান্ত করে গিয়েছে। যেটা আগের সরকার চূড়ান্ত করে গিয়েছে, সেটা যদি আমরা আবার রিভিউ করতে যাই, তাইলে সুট অ্যান্ড লিটিগেশন বা মামলা ও আইনি জটিলতায় (পড়তে হবে)। এদিকে ৩২ হাজার ৫০০ হেডমাস্টার নিয়োগ করতে পারিনি সুটের (মামলা) জন্য, আমরা যদি কোর্ট থেকে বের করে নিয়ে এসে তাদের প্রমোশন করে দেই, তখন দেখা যাবে আবার ৩২ হাজার ৫০০ নতুন শিক্ষক নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘এর মাঝে আবার যদি এই নতুন এভিনিউ আমরা শুরু করে, তাইলে আমাদের অসুবিধা হবে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আপাতত এই বেলায় যাক।’

লিখিত পরীক্ষা দেননি, এমন অনেকে মৌখিক পরীক্ষা দিয়েছেন— এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা স্পেসিফিক অভিযোগ দিন। স্পেসিফিক অনিয়মের অভিযোগ পেলে আমরা পুনঃতদন্ত করব।’

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (তিন পার্বত্য জেলা বাদে) এক হাজার ৪০৮টি পরীক্ষাকেন্দ্রে একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৯৫টি আবেদন জমা পড়ে এবং ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে গত ২১ জানুয়ারি রাতে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে প্রাথমিকভাবে ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে উত্তীর্ণ করা হয়। গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্ব স্ব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীদের এখন চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয় ৮ ফেব্রুয়ারি।