রাতে শিক্ষার্থীদের ঘোরাঘুরি বিতর্কে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী
আমার নির্বাচনী এলাকা কচুয়ায় মাদক, ইভটিজিং, সন্ত্রাস ও রাতের অযথা ঘোরাফেরা বন্ধের বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যকে জাতীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, এটি আমার নির্বাচনী এলাকার ব্যক্তিগত কমিটমেন্ট, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো জাতীয় ঘোষণা নয়।
আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় সচিবালয়ে ফল প্রকাশকালে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের বাহিরে নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমি বহুবার, হয়তো হাজারবার বলেছি আমার কচুয়া নির্বাচনী এলাকায় যদি আমি নির্বাচিত হই, তাহলে ১২ তারিখের পর মাদক বন্ধ হতে হবে, ইভটিজিং বন্ধ হতে হবে, সন্ত্রাস বন্ধ হতে হবে। সারারাত রাস্তাঘাটে ঘোরাফেরা করাও বন্ধ হতে হবে। এটা আমি বারবার বলে আসছি এবং এখনো বলছি।’
এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘মন্ত্রী হওয়ার পর আমি কচুয়া উপজেলায় প্রশাসনকে ডেকে বলেছি ওসি সাহেব, বিষয়টি সাংবিধানিকভাবে জটিল হতে পারে। তবে কচুয়ার অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে যদি কেউ রাস্তায় ঘোরাফেরা করে, তাহলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন এবং অভিভাবকদের জানাবেন। এটি আমার নির্বাচনী এলাকার কমিটমেন্ট।’
মন্ত্রী বলেন, ‘সারা বাংলাদেশে কী হবে সে ঘোষণা আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেইনি। এটি শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে কোনো জাতীয় ঘোষণা নয়; এটি আমার এমপি হিসেবে নির্বাচনী এলাকার জন্য দেওয়া কমিটমেন্ট, কচুয়ার জন্য। এ বিষয়ে আমি কোনো জাতীয় কমিটমেন্ট করিনি বা প্রেস কনফারেন্সে তেমন কিছু বলিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরতে হবে এ কথা আমরা বরাবরই বলে আসছি এবং বলে যাব। এটা করতেই হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গনে আমরাও ছাত্র ছিলাম। আমরা সন্ধ্যার পর পড়ার টেবিলে বসতাম। যে গতানুগতিকভাবে আমরা শিখেছি, সেভাবেই আমরা কথা বলছি। আমি বিষয়টি অন্যভাবে দেখিনি।’
নৈতিক শিক্ষার বিষয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা একদম গ্রেড ওয়ান থেকে নৈতিক শিক্ষা, ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক শিক্ষা সবকিছু একত্রে প্যাকেজ আকারে নিয়ে যেতে চাই। কারণ হঠাৎ করে শুধু উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে পরিবর্তন আনলে জাতি ও শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে না। একদম প্রাইমারি লেভেল থেকেই আমাদের শুরু করতে হবে।’