০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:১১

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ ছয়টির বেশি দেশ: পাকিস্তান

তিন মুসলিম দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি মক্কা প্রতিরক্ষা জোট  © সংগৃহীত

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে ছয়টিরও বেশি দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তবে কোন কোন দেশ এই জোটে যোগ দিতে আগ্রহী, তা প্রকাশ করেননি তিনি। শুক্রবার (২ অক্টোবর) ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। খবর জিও নিউজের

ইসহাক দার বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি মূলত আত্মরক্ষামূলক। এর কোনো আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্য নেই। গত ৩১ আগস্ট চুক্তির আওতায় প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জোটটির সদর দপ্তর সৌদি আরবে স্থাপন করা হবে।

গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে সই করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ব্যবস্থাকে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সদস্য নেওয়ার বিষয়টি জোট পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর বিবেচনা করা হবে। ইসহাক দার জানিয়েছেন, ছয়টিরও বেশি দেশ এতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সৌদি আরবের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আগামী সপ্তাহে চুক্তির আওতায় একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান ইসহাক দার। তার দাবি, সৌদি আরব এরই মধ্যে ১৭ থেকে ১৮টি হামলার শিকার হয়েছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর তিন দেশের সামরিক প্রধানেরা সৌদি আরবকে সহায়তার বিষয়েও জরুরি বৈঠক করেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সৌদি আরবকে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ জাতিসংঘ সনদ এ ধরনের জোটকে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি দেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ন্যাটোর উদাহরণ টানেন ইসহাক দার।

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে পাকিস্তানের লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) নুমান মাহমুদকে মনোনীত করা হয়েছে। ইসহাক দার তাকে ‘অত্যন্ত ভালো ও ধর্মপ্রাণ কর্মকর্তা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এর আগে আগস্টের শেষ দিকে জোটটির প্রথম বৈঠকে অন্য দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি কাঠামো তৈরির কথা জানিয়েছিলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি বলেছিলেন, নীতিগুলো মেনে চলতে আগ্রহী বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জোটটি উন্মুক্ত থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে হরমুজ প্রণালি নিয়েও কথা বলেন ইসহাক দার। তিনি বলেন, কৌশলগত এই জলপথ অতিক্রমের জন্য কোনো ফি বা সার্ভিস চার্জ থাকা উচিত নয়। হরমুজ প্রণালি ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন।

আফগানিস্তান প্রসঙ্গে পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরে ইসহাক দার বলেন, আফগানিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের শুভকামনা রয়েছে। তবে কাবুলকে নিশ্চিত করতে হবে, দেশটির ভূখণ্ড যেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহার না হয়। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি), বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এবং ফিতনা আল-হিন্দুস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এমন প্রমাণও আফগানিস্তানকে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।