রুম ভাংচুরের পর ফোন-ক্যামেরা-ল্যাপটপ-মানিব্যাগ লুট করল কারা?
রাজধানীর সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া প্রাঙ্গণে হল দখল ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় তীব্র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ ওবায়দুল হকসহ ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের একাধিক নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
গত ৪ আগস্ট দুপুরে শুরু হওয়া এই ঘটনার পরপরই আবাসিক হলের বিভিন্ন কক্ষের তালা ভেঙে ভাঙচুর এবং ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন।
সংঘর্ষ চলাকালে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ওবায়দুল হক গুরুতর আহত হন। এছাড়া শাখা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল হোসেন মমিন এবং সদ্য সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ছানাউল্লাসহ ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন।
দুপুরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার সুযোগে একদল দুর্বৃত্ত হলের বিভিন্ন কক্ষে প্রবেশ করে। ভুক্তভোগী সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, হলের একের পর এক রুমের দরজা ও তালা ভেঙে তাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, ক্যামেরা ও লেন্স, বৈদ্যুতিক ফ্যান, ওয়াইফাই রাউটার এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়।
আল্লামা কাশগরী হলের ৩৫৩ নাম্বার রুমের কামিল ২য় বর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. আহমেদ নাইম জানান, দুপুরে খাবার খেতে বের হওয়ার আগে মোবাইলটি চার্জে লাগিয়ে দিয়েছিলাম। দিনভর সংঘর্ষ চলায় রুমে ফিরতে পারিনি। রাত সাড়ে ৮টার দিকে হলে ফিরে দেখি রুম পুরো ভাঙচুর করা হয়েছে এবং আমার ল্যাপটপ, মোবাইলসহ ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো নিয়ে গেছে।
২২৭ নম্বর কক্ষের শিক্ষার্থী মো. মুজাহিদুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের সময় কোন এক পক্ষ আমার রুমের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। লকারে রাখা ল্যাপটপ এবং কক্ষের রাউটারটি তারা নিয়ে যায়।
১২১ নম্বর কক্ষের শিক্ষার্থী হোসাইন মোড়ল অভিযোগ করে বলেন, রুমের তালা ভেঙে লকার থেকে ব্যাংক কার্ড, জরুরি কাগজ-ফাইল, মোবাইল ও অনুসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে।
৩৭৮ নম্বর কক্ষের শিক্ষার্থী গোলাম রাব্বি জানান, তার কক্ষ ভাঙচুর করে লকার থেকে ক্যামেরা, লেন্স, চার্জার ও রাউটার নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এদিকে শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সম্পাদক আবদুল্লাহ আল গালিব অভিযোগ করে জানান, ছাত্র শিবিরের দপ্তর সম্পাদক সাইমুনের নেতৃত্বে আমার রুমে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে রাতে ল্যাপটপ, রাউটার ও সাংগঠনিক কাগজপত্রসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
এছাড়াও হলের বিভিন্ন রুম থেকে শিক্ষার্থীদের একাধিক ল্যাপটপ , মোবাইল ,টাকা, ফ্যান, রাউটার ,ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস সহ অন্যান্যা জিনিস পত্র লুট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
হলজুড়ে দিনভর সংঘর্ষ ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার, দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।