০৫ মার্চ ২০২৬, ২০:২৮

উপবৃত্তির নামে ‘মুঠোফোনে’ সক্রিয় প্রতারক চক্র, বাদ যাচ্ছে না অভিভাবকরাও

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে চক্র।  © টিডিসি সম্পাদিত

উপবৃত্তির নামে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে একাধিক চক্র। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বৃত্তির কথা বলে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের গোপন তথ্য, মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর এমনকি নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব প্রতারকদের থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা বলছে, উপবৃত্তির টাকার বিষয়ে কোনো কর্মকর্তা–কর্মচারীর পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত নম্বরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নম্বরে যোগাযোগ করা হয় না।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অপরিচিত নম্বর থেকে হঠাৎ কল দিয়ে নাম, পিতা-মাতার নাম এমনকি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরসহ বিভিন্ন গোপন ও ব্যক্তিগত তথ্য বলে প্রতারক চক্র। এগুলো এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন তিনি আসলেই কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং ওই শিক্ষার্থীর সকল তথ্য জানেন। পরে উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের গোপন তথ্য এমনকি সরাসরি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে চক্র। একটি দুইটি নয় বরং এমন অসংখ্য চক্র কাজ করছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে খাইরুল ইসলাম নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, গত বছর আমি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বৃত্তির জন্য আবেদন করেছিলাম। কয়েকমাস আগে সেই বৃত্তির এককালীন একটি অনুদান আমাদের দেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে আমাকে কল দেয়। অপরিচিত ব্যক্তি বলে, তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে কল করেছেন। আমি যে বৃত্তি পেয়েছি সেখানে অতিরিক্ত আরও পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, অপরিচিত ব্যক্তি আমার ব্যাংকের কার্ড নম্বর ও আরও কিছু গোপন তথ্য চায়। তার কথায় সন্দেহ হওয়ায় আমি আর তথ্য দেইনি। পরেরদিন বিভাগে এসে শুনি আমার ক্লাসের আরও কয়েকজনের কাছেও একইভাবে তথ্য চেয়েছে প্রতারকরা।

আফরিন জাহান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাকে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল দিয়ে সমাজকল্যাণ বৃত্তির বিষয়ে কথা বলে। বলে, আপনি প্রথম পর্যায়ে বৃত্তি না পেলেও দ্বিতীয় পর্যায়ের বৃত্তির জন্য মনোনীত হয়েছেন। এজন্য আপনার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট নম্বর প্রয়োজন। পরে তাকে আমার রকেট অ্যাকাউন্ট নম্বর দেয়। পরে সে আবার আমার মোবাইলে আসা একটি ওটিপি চায়। তাকে সেটি দেওয়ার পর আমার অ্যাকাউন্টে থাকা সাড়ে তিন হাজার টাকা উধাও করে ফেলে প্রতারকরা। ওই নম্বরে পরে কল করলে সেটি বন্ধ পাই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিরাজ আহমেদ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমার টিউশনির এক ছাত্রের বাবাকে কয়েকদিন আগে একটি নম্বর থেকে কল দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বলেছে, আপনার ছেলে মাধ্যমিকের বৃত্তি পেয়েছে। বৃত্তির এই পুরো ফাইলটি মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। এজন্য লিস্টের সবাইকে আমরা কল দিয়ে বিষয়টি জানাচ্ছি। ফাইল বের করার জন্য প্রত্যেককে দুই হাজার টাকা করে দিতে হবে।

উপবৃত্তির এসব বিষয়ে প্রায় সরকারে শিক্ষাসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর থেকে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। গত বছরের নভেম্বরে প্রতারণা রোধে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের অধিক সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। 

অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. খালিদ হোসেনের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, বিভিন্ন প্রতারক চক্র এসএসসিসহ অন্যান্য পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ফোন দিচ্ছে। এসব চক্র নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে যোগাযোগ করে বৃত্তির টাকা প্রদানের কথা বলে আর্থিক তথ্য আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এতে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এতে আরও বলা হয়, বৃত্তির টাকার বিষয়ে কোনো কর্মকর্তা–কর্মচারীর পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত নম্বরে যোগাযোগ করা হয় না। তাই অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন পেলে কোনো আর্থিক তথ্য বা ব্যক্তিগত তথ্য না দেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়েছে।