ফেল করা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কীভাবে, বৈঠক সোমবার
এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীরা একই শিক্ষাবর্ষে ভর্তিসহ ‘সাপ্লিমেন্টারি এক্সাম’ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বলে জানা গেছে। আজ রবিবার (১১ অক্টোবর) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। তবে এ পদ্ধতিটি কোন শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু হবে তা আগামীকালের (সোমবার) এক পরিকল্পনা সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে এমন শিক্ষার্থীদের ‘সাপ্লিমেন্টারি এক্সাম’ নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। সরকারও এ ব্যাপারে ইতিবাচক রয়েছে। আগামীকাল সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে পরিকল্পনা মিটিং করা হবে। সেখানে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ‘ড্রপআউট’ কিভাবে ঠেকানো যায়, কী কী পরিকল্পনা নেওয়া যায়, সেসব বিষয়ে একটি আলোচনা করা হবে। পরে সরকারের উপদেষ্টা ও মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে উপস্থাপন করা হবে। পরবর্তীতে যে সিদ্ধান্ত হবে, তা বাস্তবায়নে আমরা কাজ শুরু করব।
অকৃতকার্যদের পরীক্ষা কি এ বছরে নেওয়া হবে জানতে চাইলে অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন খুবই গোপনীয় বিষয়, তাছাড়া বিজি প্রেসের স্লটও এখন খালি পাওয়া যাবে না। তিন মাস আগেই প্রশ্নপত্র তৈরি করে রাখতে হয়। এ বছর তা করা কষ্টসাধ্য। তবে কোন শিক্ষাবর্ষ থেকে তা কার্যকর হবে তা এখনো বলা সম্ভব হচ্ছে না। এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা একই শিক্ষাবর্ষে কলেজে ভর্তি হতে পারবে। তবে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে কাজ শুরু করব।
জানা গেছে, সর্বশেষ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। বিদ্যমান নিয়মে এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় কোনো পরীক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে পরের বছর আবার পরীক্ষায় বসতে হয়। সে ক্ষেত্রে শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে অথবা চাইলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে।
কিন্তু একটি বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে একজন শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। এতে তার শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি তৈরি হয় বাড়তি মানসিক চাপ। তাই এমন শিক্ষার্থীদের বিষয়ে কাজ করছে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।
এদিকে গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এবার শুধু ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। আর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।
ফলাফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নে বিপুল শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন। প্রথমবার ফল প্রকাশের সময় অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে ৪ হাজার ৫৮৫ পরীক্ষার্থী পরে উত্তীর্ণ হয়েছে। গতবার এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২০৭। অর্থাৎ এবার অকৃতকার্য থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি।