শাস্তির আওতায় আসছেন এসএসসির খাতা মূল্যায়ন করা ৪ শতাধিক শিক্ষক
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ভুলের সঙ্গে জড়িত ৪ শতাধিক শিক্ষককে চিহ্নিত করেছে শিক্ষাবোর্ড। তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে খাতা মূল্যায়নে দায়িত্বে অবহেলার জন্য শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনতে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।
আন্তঃশিক্ষাবোর্ডের সমন্বয়ক অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, খাতা মূল্যায়নে অনুচিত নম্বর দেওয়ার বিষয়টিও নতুন নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ ধরনের নম্বর দেওয়ার সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৫৬ হাজার ২৫৯ জন শিক্ষার্থীর নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের। এর মধ্যে ফেল থেকে পাস করেছে ৪ হাজার ৫৮৫ জন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন।
এত বড় সংখ্যায় ফল পরিবর্তনের ঘটনায় খাতা মূল্যায়নের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনও খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার ফল চ্যালেঞ্জ করে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এত সংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল কীভাবে পরিবর্তিত হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। যারা পরীক্ষার খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেননি, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনা হবে এবং প্রয়োজনে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’
শিক্ষাবিদরা বলছেন, খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকদের ভুলের পাশাপাশি দ্রুত ফল প্রকাশের চাপও এর জন্য দায়ী হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের খাতা মূল্যায়নের বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ না থাকায় এ ধরনের ভুল পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, শিক্ষকদের ভুলের পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে ফল প্রস্তুতের চাপ থাকে। এ কারণেও খাতা মূল্যায়নে ভুল হতে পারে।