সবচেয়ে বেশি ঢাকা বোর্ডে পৌনে ৩ লাখ—এসএসসির ১১ বোর্ডে প্রায় ১৩ লাখ খাতা পুনর্মূল্যায়ন কীভাবে
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রায় ১৩ লাখ খাতা জমা পড়েছে দেশের ১১টি শিক্ষাবোর্ডে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা বোর্ডে পৌনে ৩ লাখ খাতা জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। এসব খাতা দেখা শুরু করেছে স্ব স্ব বোর্ড সংশ্লিষ্টরা। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পুনর্মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির গাইডলাইন প্রকাশ করেছি। সে অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা ভর্তির আবেদন করবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খাতা পুনর্মূল্যায়ন চলছে এবং আগামী ১০ সেপ্টেম্বর ফল প্রকাশ করা হবে।’
উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণে যে চারটি বিষয় দেখা হয়—সবকটি উত্তরপত্রে নম্বর দেওয়া হয়েছে কি না, প্রাপ্ত নম্বর গণনা ঠিক হয়েছে কি না, প্রাপ্ত নম্বর ওএমআর শিটে তুলতে ভুল হয়েছে কি না এবং প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী ওএমআর শিটে বৃত্ত ভরাট হয়েছে কি না।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সূত্রে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। পরদিন ১১ আগস্ট থেকে পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন শুরু হয়। এ প্রক্রিয়া চলে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের অনেকে একাধিক খাতা চ্যালেঞ্জ বা পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন করেছেন। এতে মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়েছে।
সরকার থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে খাতা পুনর্মূল্যায়নের কাজ শেষ করার জন্য বলা হয়েছে বলে বোর্ড চেয়ারম্যানরা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, যশোর, বরিশাল ও সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খাতা মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ডে এসে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খাতা দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকরা। প্রতি বিষয়ে ২/৩ জন শিক্ষক খাতা দেখছেন। প্রথমে নম্বরে যোগ-বিয়োগে কোনো ত্রুটি আছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করছেন। পাশাপাশি খাতা রিভিউ করছেন তারা।
এ ছাড়া কোনো কোনো বোর্ডে গতকাল সোমবার (২৪ আগস্ট) থেকে খাতা দেখা শুরু করা হয়েছে। আবার কোথাও আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) থেকে কাজ শুরু হয়েছে। তবে সব শিক্ষাবোর্ডই ৫ সেপ্টেম্বরকে সামনে রেখে খাতা পুনর্মূল্যায়নের কাজ করছে।
কোন শিক্ষাবোর্ডে কত খাতা চ্যালেঞ্জ বা পুনর্মূল্যায়ন
ঢাকা শিক্ষাবোর্ডে আনুমানিক ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০টি খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করেছে শিক্ষার্থীরা। এসব খাতা দেখতে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষক বোর্ডে উপস্থিত হয়ে কাজ করছেন বলে জানান বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষকরা সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খাতা নর্মূল্যায়ন করছেন। আমরা ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করব। শিক্ষার্থীদের খাতা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করতেই আমাদের শিক্ষকরা পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।’
ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ডে খাতা ৭১ হাজার ৬৬টি খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করেছে শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি নিশ্চিত করে বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর এ জেড এম রেজাউল করিম খান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আমাদের ৭৬ শিক্ষক কাজ করছেন। গত ২৩ আগস্ট থেকে শিক্ষার্থীদের খাতা দেখা হচ্ছে। ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০৬টি খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করেছে শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি নিশ্চিত করে বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, গতকাল থেকে খাতা দেখা শুরু হয়েছে। এখন ইংরেজি ও পদার্থ বিষয়ের খাতা দেখা হচ্ছে। বাকিগুলো ধাপে ধাপে দেখা হবে। সকাল থেকে শুরু হয়ে চলে বিকেল পর্যন্ত খাতা দেখছেন শিক্ষকরা। তাই খাতা দেখা শেষ হলে বলা যাবে কতজন কাজ করছেন। তবে প্রতি বিষয়ে তিনজন করে শিক্ষক খাতা দেখছেন।
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে রিটেনের জন্য আবেদন পড়েছে মোট ৯৮ হাজার ১৭০টি, ব্যবহারিকে ২৪ হাজার ৫৮টি খাতার আবেদন করেছে শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, প্রতিটি বিষয়ের জন্য ৩ জন শিক্ষক কাজ করছেন। ২৪ আগস্ট থেকে খাতা দেখার কাজ শুরু হয়েছে, চলবে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
যশোর শিক্ষাবোর্ডে মোট ৭৪ হাজার ৭১৭টি আবেদন পড়েছে। আজ মঙ্গলবার থেকে খাতা দেখা শুরু হয়েছে এবং নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চলবে। এ সময়ের মধ্যে খাতা দেখার কাজ শেষ না হলে একদিন বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি চাওয়া হবে বলে জানান রীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস. এম. হোসেন আলী। তিনি বলেন, সরকারের দেওয়া সময়ের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা চলছে। খাতা দেখতে আমাদের ২৪৭ জন শিক্ষক কাজ করছেন।
বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে ৫০ হাজার ১৫৩টি আবেদন পড়েছে। এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর শরীফ মোর্শেদ রেজা বলেন, আজকের ভেতর প্রধান পরীক্ষকদের কাছ থেকে সব খাতা পেয়ে যাব। কাল সরকারি ছুটি থাকায় আগামী রবিবার (২৯ আগস্ট) থেকে খাতা দেখার কাজ শুরু হবে, চলবে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আনুমানিক ৪০০ জন শিক্ষক কাজ করবেন।
সিলেট শিক্ষাবোর্ডে রিটেনে মোট ৫০ হাজার ৭১০টি, আর ব্যাবহারিকে ১০ হাজার ২৬৪টি খাতা চ্যালেঞ্জের জন্য আবেদন পড়েছে। ২৯ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার কথা জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বিলকিস ইয়াছমীন। তিনি বলেন, খাতা দেখতে আনুমানিক ১৭০ থেকে ১৮০ জন কাজ করতে পারেন। তবে বৃহস্পতিবার বা রবিবার জানাতে পারব মোট কতজন কাজ করবেন।
দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে মোট ৮৯ হাজার ২৮৬টি খাতা চ্যালেঞ্জের জন্য আবেদন পড়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রয়ক প্রফেসর মো. বোরহান উদ্দীন। এ বোর্ডের খাতা দেখতে প্রায় ৯০০ শিক্ষক কাজ করবেন বলে জানান তিনি।
এ ছাড়াও কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাদের পাওয়া যায়নি। প্রত্যেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নম্বরে কল করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি। তবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এসএসসি ও সমমানের খাতা চ্যালেঞ্জের জন্য মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি আবেদন পড়েছে।