এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন তিন লাখ ছাড়াল, বাকি আরও দুদিন
প্রায় দুই দশকের মধ্যে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সবচেয়ে খারাপ ফলাফল হয়েছে। এবার গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। পরীক্ষায় অংশ নিয়েও ফেল করেছে প্রায় ৭ লাখ শিক্ষার্থী। তবে ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য সুযোগ পাচ্ছে। ফল প্রকাশের পরদিন (১১ আগস্ট) থেকে আবেদন শুরু হয়েছে, অনলাইনে যা চলবে আগামী সোমবার (১৭ আগস্ট) পর্যন্ত।
এদিকে, এবার রেকর্ড পরিমাণ শিক্ষার্থী খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন। গত ১১ আগস্ট থেকে শুরু পর আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) ৫ম দিন পর্যন্ত মোট আবেদন করেছে ৩ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী।
আজ শনিবার বিকেলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত এসএসসির ফলাফলে অসন্তুষ্ট তিন লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা।
এই কর্মকর্তা বলেন, ফল প্রকাশের দিন থেকে এখন পর্যন্ত তিন লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী তাদের খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ সংখ্যা আরও বাড়ছে। এত পরিমাণ খাতা যদি পুনর্নিরীক্ষণ করতে হয়, তা বিশাল কর্মযজ্ঞের বিষয়। আমাদের নতুন করে পরীক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। খাতা বের করা, মার্কিং করা, যোগ করা ও আবার ইনপুট করা। সবমিলিয়ে আমাদের একটা পদ্ধতির মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন : টেস্টের পর সময় কমছে এবার—জানুয়ারির শুরুতেই ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা
জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের আইন অনুযায়ী খাতা পরিদর্শনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তবে বর্তমান সরকার আইনটিতে সংশোধন আনে। ফলে এবার শিক্ষার্থীদের খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পাশাপাশি পুর্নমূল্যায়নেরও সুযোগ রয়েছে। এই আবেদন চলবে আগামী সোমবার পর্যন্ত।
যেভাবে আবেদন করতে হবে
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য এই ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত স্থানে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে।ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত স্থানে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে। এরপর বোর্ডের ড্রপডাউন মেনু থেকে সংশ্লিষ্ট বোর্ড নির্বাচন করে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। পরবর্তী ধাপে মোবাইল ফোন নম্বর দিতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশিত হলে ওই নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে তা জানানো হবে।
পরবর্তী স্ক্রিনে শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখা যাবে। এক বা একাধিক বিষয়ের ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।
প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা হারে ফি প্রযোজ্য হবে। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্যই আবেদন করতে হবে। পরবর্তী স্ক্রিনে মোট প্রদেয় ফি’র পরিমাণ দেখা যাবে। বিকাশ, নগদ ও সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে। ফি পরিশোধের বিস্তারিত ধাপ জানতে সংশ্লিষ্ট পোর্টালের ‘হেল্প’ বাটনে ক্লিক করে নির্দেশনাগুলো দেখে নেওয়া যাবে।
ফি পরিশোধের পর আবেদন পোর্টালে ফিরে এসে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। একবার ফি দিয়ে আবেদন জমা দেয়ার পর অতিরিক্ত কোনো বিষয় যুক্ত করতে চাইলে একই প্রক্রিয়ায় তা করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে নতুন করে মোবাইল ফোন নম্বর দেয়ার প্রয়োজন হবে না।
অন্যদিকে, ফি পরিশোধের আগে আবেদন পরিবর্তন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন হলে ‘মুছে ফেলুন’ বাটনে ক্লিক করে যেসব বিষয়ের জন্য এখনো ফি দেয়া হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহার করা যাবে। এরপর নতুন করে প্রয়োজনীয় বিষয় নির্বাচন করা যাবে।
তবে একবার ফি জমা দেয়ার পর আবেদন করা বিষয়গুলো আর বাতিল করা যাবে না। কোনো অবস্থাতেই পরিশোধ করা ফি ফেরত দেয়া হবে না। এ ছাড়া ম্যানুয়ালি কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
পুনর্নিরীক্ষণ নয়, পুনর্মূল্যায়নও করা হবে এবার
গত সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর ফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছিলেন, কোনো শিক্ষার্থীকে ভুল নম্বর দেওয়া হলে বা প্রাপ্য নম্বর না দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। এ জন্য রিভিউ কমিটি গঠন করা হবে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তার প্রাপ্য নম্বর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও বলেছিলেন, আগে রিভিউয়ের ক্ষেত্রে মূলত ট্যাবুলেশন শিট দেখা হতো। শিক্ষার্থীর খাতা পুনরায় দেখে শিক্ষক যথাযথ নম্বর দিয়েছেন কি না, তা যাচাইয়ের সুযোগ ছিল না। এবার আইনগতভাবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে।