কাল সিলেট বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, ‘সিলেট বিভাগের বন্যা পরিস্থিতি আমরা পর্যবেক্ষণে রাখছি। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, কেন্দ্রগুলোতে যথাসময়ে এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে। পরীক্ষা নেওয়ার পরিবেশ-পরিস্থিতি যেহেতু ঠিক রয়েছে, তাই যথাসময়েই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এখন পর্যন্ত এটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।’
জানা গেছে, বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের শনিবারের (১১ জুলাই) এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে সিলেটে বন্যার আশঙ্কা থাকলেও শনিবারের পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে বলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডকে জানায় স্থানীয় প্রশাসন ও পরীক্ষা সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রাম বোর্ড বাদে বাকি সব বোর্ডেই শনিবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (২৭৫) পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এদিকে বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলার মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। জেলা পাঁচটি হলো- চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। এসব জেলা বাদে বাকি জেলাগুলোতে মাদ্রাসা ও কারিগরির পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এর আগে বন্যা পরিস্থিতির কারণে আজ বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম ও সিলেট শিক্ষা বোর্ডের শনিবারের পরীক্ষার বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড একটি মিটিংয়ে বসে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয় এবং সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি জানতে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সেখানকার বন্যা পরিস্থিতির খোঁজ-খবর নেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে স্থানীয় প্রশাসনের পরামর্শে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের কালকের পরীক্ষা স্থগিত না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জানা গেছে, টানা তিন দিনের বৃষ্টি ও ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট বিভাগের চার জেলায় বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মৌলভীবাজারের মনু ও হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে বিভাগজুড়ে বন্যার আশঙ্কা ও উদ্বেগ বাড়ছে।
এ ছাড়াও ভারি বৃষ্টির কারণে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিশেষ করে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। উত্তরের চার জেলায় বন্যার শঙ্কা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।